এইচপিভি টিকায় রুখে দেওয়া সম্ভব জরায়ুমুখের ক্যানসার

ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের পাশাপাশি জরায়ুমুখের ক্যানসারও একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ক্যানসারের প্রধান কারণ হিউমান প্যাপিলোমা  ভাইরাস বা এইচপিভি দীর্ঘদিন শরীরে এই ভাইরাস সক্রিয় থাকলে জরায়ুমুখের কোষে ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটে, যা পরবর্তীতে ক্যানসারের রূপ নিতে পারে। সমস্যা হল, প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের তেমন কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে রোগ ধরা পড়ে এবং তখন চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে ওঠে।

জনৈক ক্যানসার বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা এবং টিকাই সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। এইচপিভি টিকা শরীরকে আগেভাগেই ভাইরাস চিনে নিতে সাহায্য করে ।এর ফলে ভবিষ্যতে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায় এবং সেই সঙ্গে কমে যায় ক্যানসারের ঝুঁকিও। সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের মূল কারণ যেহেতু এইচপিভি, তাই এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারলেই ক্যানসারের সম্ভাবনাও কমানো সম্ভব। শুধু মেয়েরাই নয়, ছেলেদেরও এই টিকা দেওয়া দরকার,  যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে।

চিকিৎসকদের মতে, কিশোরী বয়সেই এই টিকা নেওয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর।৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে দু’টি টিকার ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যাঁদের বয়স ১৫ বছরের বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে টিকার তিনতি ডোজের প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট মত, শিশুরোগচিকিৎসক বা স্ত্রীরোগচিকিৎসক যদি এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন, তা অবহেলা করা  উচিত নয়।


সাম্প্রতিক বাজেট অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য এইচপিভি টিকাকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতয় আনা হয়েছে। ফলে সরকারি ব্যবস্থায় এই টিকা বিনামূল্যেই পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এই দুই মিলেই জরায়ুমুখের ক্যানসার থেকে বহু জীবন রক্ষা করা যেতে পারে।