মৃত মহিলার জরায়ুতে মা হলেন গ্রেস বেল

জরায়ু ছাড়া জন্ম নেওয়া গ্রেস বেল কখনো ভাবতেই পারেননি মা হবেন। ইংল্যান্ডের কেন্টের এই মধ্য ৩০-এর এই মহিলা এবং তাঁর সঙ্গী স্টিভ পাওয়েল সন্তানধারণের স্বপ্ন দেখলেও শারীরিকভাবে তা সম্ভব ছিল না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় গ্রেসির এই অবস্থাকে বলা হয় মায়ার-রোকিটানস্কি-কুস্টার-হাউসার সিনড্রোম বা এমআরকেএইচ সিনড্রোম। এক্ষেত্রে ডিম্বাশয় থাকলেও জরায়ু না থাকায় মাসিক হয় না এবং স্বাভাবিকভাবে সন্তানধারণ সম্ভব হয় না।
ব্রিটেনে প্রতি ৫ হাজার মহিলার মধ্যে একজনের এই সমস্যা দেখা যায়।

গ্রেসি তবুও মা হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করেননি। জরায়ু প্রতিস্থাপন কিংবা সারোগেসি – সম্ভাবনার এই দুটি পথ ছিল। বছর দুয়েক আগে তিনি একটি ফোন পান। জানতে পারেন, এক মহিলা মারা গিয়েছেন এবং তাঁর পরিবার জরায়ু দান করেছেন গ্রেসির শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি গ্রেসি, তবে সেই দানই তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দেয়।

২০২৪ সালের জুনে অক্সফোর্ডের দ্য চার্চিল হাসপাতালে ১০ ঘণ্টার এক জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গ্রেসির শরীরে জরায়ু প্রতিস্থাপন করা হয়। পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছু সময় লাগে, তারপরই মা হওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে লন্ডনের লিস্টার ফার্টিলিটি ক্লিনিকে ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয় এবং চলতি বছরের শুরুতে গ্রেসি জন্ম দেন তাঁর ছেলে হিউগোকে।


ছেলেকে কোলে নিয়ে গ্রেসির বিস্ময় এখনও কাটে না। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘সকালে উঠে ছেলের মুখটা যখন দেখি, মনে হয় স্বপ্ন দেখছি।’ এই জীবনের মিরাকল সম্পূর্ণ সম্ভব হয়েছে মৃত মহিলা ও তাঁর পরিবারের মানবিকতার কারণে। গ্রেসি বারবার তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনা শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিই নয়, মানবিকতার শক্তিকেও প্রমাণ করে—যেখানে এক দানের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করা হয়েছে।