Shyamakatha: মৃত্যুর দেবতা যমও তাঁকে ভয় পায়, কৃষ্ণা বর্ণা এই দেবী মুক্তির প্রতীক, কে এই দেবী জেনে নিন

Image: SNS

তন্ত্রসাধক কৃষ্ণনন্দ আগমবাগীশের হাত ধরে ১৬শ শতাব্দীতে বাঙালি পরিচয় ঘটেছিল  কালীর রূপের সঙ্গে। তার আগে দেবী উপাসনা করা হতো গোপন তান্ত্রিক রূপে। দেবীপুরাণ, দেবীমাহাত্ম্য ও কালিকাপুরাণে দেবীর বিভিন্ন রূপের বর্ণনা করা হয়েছে। দেবীর চার হাত, কৃষ্ণবর্ণা কখনও আবার নীল, খোলা চুল, গলায় মুণ্ডমালা এবং ছিন্নমুণ্ড হাতে তাঁকে দেখা যায়। তিনি মহাদেবের বুকে দাঁড়িয়ে, তিনি আদি শক্তির প্রকাশ।

দক্ষিণাকালী, শ্মশানকালী, গুহ্যকালী, রক্ষাকালী, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালী এবং মহাকালী কালীর নানা রূপের আরাধনা করা হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে ‘ব্রহ্মময়ী’, ‘ভবতারিণী’, ‘আনন্দময়ী’ বা ‘করুণাময়ী’ নামেও বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা ও পূজা করা হয়।

তোড়ল তন্ত্র মতে, কালী আটটি রূপ-দক্ষিণাকালী, সিদ্ধকালী, গুহ্যকালী, মহাকালী, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালী, শ্মশানকালী ও শ্রীকালী। মহাকাল সংহিতায় নববিধা কালী বর্ণনা পাওয়া যায়। তাঁরা হলেন কালকালী, কামকলাকালী, ধনদাকালী, চণ্ডিকাকালী।


কালীর সবচেয়ে পরিচিত রূপ হল দক্ষিণাকালী। মনে করা হয়, মৃত্যুর দেবতা যমও তাঁকে ভয় পান। ভয়ঙ্কর এই দেবীর চেহারায় যেমন আছে রুদ্রতা, তেমনই ভক্তকে দেয় সুরক্ষার আশ্বাস। চার হাতে রয়েছে, সদ্যছিন্ন মুণ্ড ও খড়্গ, বর ও অভয় মুদ্রা। কৃষ্ণাবর্ণা এই দেবী মহাভয়ঙ্করী হলেও তিনি আসলে মুক্তির প্রতীক। তান্ত্রিক মতে, দক্ষিণা-র অর্থ পূর্ণতা বা সম্পূর্ণ দান। যজ্ঞের পরে দক্ষিণা না দিলে কর্ম অসম্পূর্ণ থেকে যায। তেমনি কালীই কর্মের পরিণতি, মুক্তি দান করেন। এজন্য তাঁকে বলা হয় ‘দক্ষিণা’।

আরও পড়ুন: Shyamakatha: রামপ্রসাদের কালীসাধনা, দেবীর মৃন্ময়ী রূপ জাগ্রত গানে

ভগবতী ত্রিপুরসুন্দরীর রূপান্তরই হল দক্ষিণা কালী। এই রূপে দেবী ভক্তকে দ্রুত ফল ও মোক্ষ প্রদান করেন। শিবকে ‘দক্ষিণা পুরুষ’ এবং তাঁর শক্তি দেবী কালিকাকে ‘বামা’ বলা হয়। তন্ত্রের দর্শনে, যখন বামা শক্তি দক্ষিণা পুরুষকে জয় করে অর্থাৎ শক্তি চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করে, তখনই জীবের মহামুক্তি ঘটে। এই বিশেষ তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা থেকেই দেবীর নাম হয়েছে ‘দক্ষিণা কালী’।

দক্ষিণা কালীর মূর্তিতে দেখা যায় গাঢ় নীল বা শ্যামবর্ণ রূপে। তাঁর মুখে রক্ত, গলায় মুণ্ডুমালা। চারটি হাতে প্রতিটিতেই রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। এক হাতে ধরা খড়্গ শক্তির প্রতীক, অন্য হাতে সদ্যছিন্ন মুণ্ড মানুষের অহংকারের বিনাশকে নির্দেশ করে। বাকি দুই হাতে রয়েছে বরমুদ্র ও অভয়মুদ্র। একদিকে তিনি ভক্তকে আশীর্বাদ করেন, অন্যদিকে ভয় ও বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

দেবীর ডান পা থাকে মহাদেবের বুকে। এই রূপে প্রকাশ পায় করুণা, জ্ঞান ও শক্তির বিশেষ সমন্বয়। প্রচলিত মূর্তিতত্ত্বের ব্যাখ্যায় শিবের বুকে দেবীর বাম পা থাকলে তাঁকে শ্মশানকালী রূপে কল্পনা করা হয়।

দক্ষিণা কালীর প্রতিটি অলংকার ও অঙ্গভঙ্গির মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক দর্শন। তিনি মানুষের অহংকার ও অজ্ঞানতার বিনাশ ঘটিয়ে মুক্তির পথ দেখান। তাঁর গলায় মুণ্ডমালাকে জ্ঞানচক্রের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। কোমরে থাকা হাতের মালা বা হাত দিয়ে তৈরি বস্ত্র কর্মফলের বন্ধন থেকে মুক্তির ইঙ্গিত দেয়। দেবীর প্রসারিত জিহ্বাকে আসক্তির প্রতীক এবং দাঁতকে সত্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ সত্য ও জ্ঞানের সাহায্যে ইন্দ্রিয়ের আসক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার বার্তাই বহন করে দক্ষিণ কালীর এই অনন্য রূপ।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/KWJSYUkvG6M?si=AhDGzntSy40aNyPF” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>