কালীর এক রূপ হল চামুণ্ডা। তিনি আদ্যাশক্তি, ভগবতী। সপ্ত মা্তৃকার মধ্যে অন্যতম। তাঁর অপর নাম চামুণ্ডী, চামুণ্ডেশ্বরী, চামুণ্ডা চর্চিকা ও চর্চিকা। তিনি আদ্যাশক্তি, তিনিই ভগবতী দুর্গা। চণ্ড ও মুণ্ড দুই অসুরকে বধ করে তিনি হয়েছেন চামুণ্ডা।
পার্বতী, চণ্ডী, দুর্গা, চামুণ্ডা ও কালী এক ও অভিন্ন রূপ। কথিত আছে চামুণ্ডা শ্মশানে বা ডুমুর গাছে থাকেন। পশুবলি ও মদ নিবেদন করে এই দেবীর পূজা করা হয়। চামুণ্ড একজন অনার্যা দেবী। পরবর্তীকালে অষ্টশক্তির অন্যতম রূপে চামুণ্ডা পূজিতা্ হন। জৈনধর্মেও চামুণ্ডার পূজা প্রচলিত আছে। তবে জৈনরা্ মদ্য ও মাংসের পরিবর্তে নিরামিষ দিয়ে পুজো করেন।
রামকৃষ্ণ ভাণ্ডারকর মনে করেন, চামুণ্ডা মধ্যভা্রতের বিন্ধ্য অঞ্চলের অরণ্যচা্রী উপজাতি সমা্জে পূজিত দেবী। এই উপজাতিরা চামুণ্ডার পুজোয় পশু, নরবলি এবং মদ দিতেন। ভাণ্ডারকরের মতে, চামুণ্ডার ভয়াল রূপের কারণ হচ্ছে দৈবিক দেবতা রুদ্র অর্থাৎ শিবের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন। আবার কখন অগ্নির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক।
আরও পড়ুন: Shyamakatha: বাংলার হংসেশ্বরী মন্দিরের পরতে পরতে রয়েছে তন্ত্রদর্শন এবং মানবচেতনার রহস্য
দেবী চামুণ্ডা কৃষ্ণাবর্ণা, গলায় নরমুণ্ডমালা, ছিন্নমুণ্ড ও রক্তপূর্ণ পানপাত্র ধারিণী, শব অথবা প্রেতের উপর উপবিষ্টা। তিনি ত্রিনয়া, কঙ্কালসার দেহ, ভয়াল মুখমণ্ডল, লম্বিত স্তন, সম্মুখপ্রসারিত দন্তপংক্তি, সর্প ও বিছের অলংকারে শোভিত। যা ব্যাধি ও মৃত্যুর প্রতীক। মস্তকে জটার মুকুট এবং কোনও কোনও বর্ণনা্য় মাথায় অর্ধচন্দ্রও রয়েছে।
দেবী চামুণ্ডা তাঁর কোটরগত চোখ দিয়ে জগৎকে ভস্মীভূত করতে পারেন। ভূত আর প্রেত তাঁর সঙ্গী। অনেক বর্ণনা্য় তাঁকে নরকঙ্কাল ও শেয়াল তাঁকে ঘিরে থাকে। চামুণ্ডা তাঁর পরাজিত শত্রুদের রক্ত পান করেন।
মার্কেণ্ডেয় পুরাণ মতে, পরাক্রমশা্লী মহিষা্সুর স্বর্গ থেকে দেবতাদের তাড়িয়ে স্বর্গ দখল করে নেন। দেবাতারা ব্রহ্মার সাহায্য চান। ব্রহ্মা মহাদেব এবং বিষ্ণুর কাছে সাহা্য্য প্রার্থনা করেন। মহিষাসুরকে কোনও পুরুষ বধ করতে পারবে না। দেবী দুর্গার হাতে বধ হন অসুর।
আরও পড়ুন: Shyamakatha: শ্মশানে পূজিতা হন এই দেবী, সামনে থাকে শবদেহ, তাই তিনি শ্মশান কালী
দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে তিনবার হত্যা করেছিলেন। প্রথমবার অষ্টাভূজা উগ্রচণ্ডা এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ভদ্রাকালী ও দশভূজা দুর্গারূপে। মার্কেণ্ডেয় পুরাণের মতে শুম্ভ-নিশুম্ভ নামে দুই অসুরের অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে দেবতারা্ মতঙ্গ মুনির আশ্রমে এসে দুর্গার আরাধনা্ করেন।
অন্যদিকে শুম্ভ-নিশুম্ভ দেবীকে ধরে আনা্র জন্য চণ্ড-মুণ্ডকে পাঠান। দেবী চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলে, তাঁর শরীর থেকে চণ্ডিকা শক্তি বের হয়। দেবীকে আক্রমণ করলে দেবীর কপাল থেকে অপর একটি ভয়ঙ্ক দেবীর সৃষ্টি হয়। তিনিই দেবী কালী।
এই সময় দেবী কালীরূপ-সহ দশটি রূপ ধরে যুদ্ধ করেছিলেন। এই রূপগুলো হল, দিগম্বরী, আকর্ণনয়না, পূর্ণযৌবনা, মুক্তকেশী, লোলজিহ্বা, মুণ্ডমালাবিভূষিতা, চুর্তভুজা, শ্যামবর্ণ এবং কালী। দেবী কালীর ছিল চারটি হাত।
এর মধ্যে দুই ডান হাতে খট্বাঙ্গ ও চন্দ্রহাস, বাম দুই হাতে চর্ম ও পাশ, গলায় নরমুণ্ডু। বসন হিসেবে ছিল বাঘের ছাল, রক্তচক্ষু বীভৎস মুখ। যুদ্ধক্ষেত্রে আবির্ভুতা্ হয়েই চণ্ড ও মুণ্ডকে হত্যা করেন। কালী চণ্ড-মুণ্ডকে হত্যা করে দুর্গার কাছে গেলে দুর্গা তাঁকে ‘চামুণ্ডা’ নামে অভিহিত করেন।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/eb8_EaSGfOk?si=D1Wzq-LeHRf159lA” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>