কখনও কখনও মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেন সাহিত্যের আড়ালে এক সমাজবিজ্ঞানী। সমাজের প্রচলিত নিয়ম, মানুষের মনস্তত্ত্ব, পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা—সবকিছুকে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন এক তীক্ষ্ণ বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে। আবার কখনও মনে হয়, তিনি গণিতজ্ঞের সূক্ষ্মতা নিয়ে মানুষের জীবনের হিসাব কষছেন। বিয়ের বাজারে মেয়ের বয়স আর পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব বিচার করে লিখছেন, ‘মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গেছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনও তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেইজন্যই তাড়া।‘
একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে গেল বিবাহপ্রথার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা নির্মম সামাজিক অঙ্ক। যেখানে মেয়ের বয়স নিয়ে উদ্বেগ আছে, কিন্তু তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা নেই| যেখানে মানুষ নয়, হিসাবই শেষ কথা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হৈমন্তী’ গল্পে অপূর্বের সঙ্গে হৈমন্তীর বিবাহিত জীবনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সমাজের পণপ্রথা, সামাজিক মর্যাদাবোধ ও পারিবারিক সংকীর্ণতার ছবি ফুটে উঠেছে। হিমালয়ের মুক্ত প্রকৃতিতে বাবার স্নেহে বেড়ে ওঠা সরল, শিক্ষিতা ও সত্যনিষ্ঠ হৈমন্তী বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে এক রক্ষণশীল পরিবেশের মুখোমুখি হয়। তার বয়স ও পিতার আর্থিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়িতে অসন্তোষ দেখা দেয়।
সামাজিক সম্মান রক্ষার জন্য তার বয়স গোপন করার চেষ্টা হলেও হৈমন্তী সত্যকে অস্বীকার করতে পারে না। ক্রমে অবহেলা ও অপমান তার জীবনকে বিষিয়ে তোলে। স্বামী অপূর্ব তাকে ভালোবাসলেও পরিবারের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারে না। অসুস্থ হৈমন্তীকে ফিরিয়ে নিতে এসে তার বাবাকেও অপমানিত হতে হয়। বাবা-মেয়ের বিচ্ছেদের বেদনাময় মুহূর্তের পর হৈমন্তীর জীবনে নেমে আসে মর্মান্তিক পরিণতি। তার ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথ এমন এক সমাজের নির্মমতা তুলে ধরেছেন, যেখানে মানুষের অনুভূতি ও আত্মমর্যাদার চেয়ে সামাজিক আচার, লোকলজ্জা এবং পারিবারিক সম্মান অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিবাহের প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি আর পিতৃপক্ষের পাকা চুলের প্রসঙ্গে রবীন্দ্র রসিকতা আরও তীক্ষ্ণ। লিখছেন, ‘বিবাহের পৌনঃপুনিক প্রস্তাবে তাহাদের পিতৃপক্ষের পাকা চুল কলপের আশীর্বাদে পুনঃপুনঃ কাঁচা হইয়া উঠে।‘ হাসির আড়ালে এখানে জমে আছে মধ্যবিত্ত সমাজের উদ্বেগ, লোকলজ্জা এবং বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সামাজিক প্রতিযোগিতা। আবার ইতিহাসের ছাত্রের কথা বলতে গিয়ে তাঁর কলমে উঠে আসে এডমন্ড বার্কের Reflections on the French Revolution মুখস্থ করার প্রসঙ্গ। বিজ্ঞানের যুক্তি, গণিতের সূক্ষ্মতা, ইতিহাসের বোধ এবং সমাজ পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা—সবই যেন মিলেমিশে আছে তাঁর সাহিত্যে।
রবীন্দ্রনাথের এই বাস্তববোধের এক অনন্য প্রকাশ তাঁর ‘হৈমন্তী’ গল্প। এখানে কোনও বড় রাজনৈতিক আন্দোলন নেই, নেই রাজপথে প্রতিবাদের দৃশ্য। একটি মেয়ের বিয়ে, একটি নতুন সংসার, কিছু প্রচলিত সংস্কার এবং ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে আসা একটি জীবনের গল্প। অথচ এই ছোট্ট পারিবারিক পরিসরের মধ্যেই রবীন্দ্রনাথ এমন এক সমাজের মুখোমুখি দাঁড় করান আমাদের, যেখানে পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে একজন নারীর ব্যক্তিত্ব, সত্যনিষ্ঠা, বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত বিসর্জন দেওয়া যায়।
বিয়ের পর একটি মেয়ে নতুন সংসারে আসে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে। অচেনা মানুষগুলিকে আপন করে নেওয়ার ইচ্ছা থাকে তার। ভালোবাসা দিয়ে সে গড়ে তুলতে চায় নিজের পৃথিবী। কিন্তু সেই সংসারেই যদি তার সরলতা অপরাধ হয়ে ওঠে, সত্য কথা বলা অস্বস্তির কারণ হয়, আর নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছা প্রতিদিন আঘাত পায়, তবে তার স্বপ্নের পরিণতি কী হতে পারে? ‘হৈমন্তী’ সেই প্রশ্নেরই এক মর্মস্পর্শী উপখ্যান হয়ে চির শাশ্বত |
হৈমন্তী বড় হয়েছে হিমালয়ের মুক্ত প্রকৃতির কোলে, বাবার স্নেহে। তার বেড়ে ওঠার পরিবেশে ছিল উদারতা, বিশ্বাস এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ। প্রকৃতির বিশালতা যেন তার মনকেও দিয়েছিল এক স্বাভাবিক প্রসার। সে সরল, প্রাণবন্ত এবং সত্যনিষ্ঠ। তার মধ্যে কৃত্রিমতার আবরণ নেই। সম্পর্কের হিসাব কষে কথা বলা কিংবা সামাজিক সুবিধার জন্য সত্যকে বদলে নেওয়া তার স্বভাব নয়। সে যেমন, তেমন করেই বাঁচতে চায়।
কিন্তু বিয়ের পর তার জীবনে আসে একেবারে অন্য এক পৃথিবী। বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই সংসারে সামাজিক মর্যাদা, বংশগৌরব এবং লোকলজ্জার গুরুত্ব মানুষের অনুভূতির চেয়েও বেশি। সেখানে বউয়ের নিজের মতামত বা ইচ্ছার বিশেষ মূল্য নেই। তাকে মানিয়ে নিতে হবে, পরিবারের নিয়ম মেনে চলতে হবে, প্রয়োজনে নিজের সত্যকেও অস্বীকার করতে হবে। সংসারের শান্তি রক্ষার দায় যেন একমাত্র তারই।
হৈমন্তী ধীরে ধীরে বুঝতে পারে, নতুন বাড়িতে তার জন্য যে জায়গাটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেখানে তার স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের কোনও বিশেষ প্রয়োজন নেই। তাকে ভালো বউ হতে হবে, পরিবারের সম্মান বজায় রাখতে হবে, শ্বশুরবাড়ির প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে তার নিজের কী চাওয়া-পাওয়া আছে, তার আনন্দ কোথায়, কোন কথায় সে আঘাত পায়—এসব প্রশ্ন কেউ তেমন করে ভাবতে চায় না।
এই অবহেলার কেন্দ্রে রয়েছে হৈমন্তীর বয়স এবং তার পিতৃপরিচয়। তার বাবা তাকে সতেরো বছরের মেয়ে বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তুশ্বশুরবাড়ির কাছে এই সত্যই হয়ে ওঠে অস্বস্তির কারণ। যে বয়সকে সামাজিকভাবে আড়াল করা প্রয়োজন বলে মনে করা হয়, সেই বয়স নিয়ে হৈমন্তীর কোনও সংকোচ নেই। সে বাবার কথাকে মিথ্যা বলতে পারে না। সামাজিক সুবিধার জন্য নিজের পিতার বক্তব্য অস্বীকার করা তার পক্ষে অসম্ভব।
ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে সামান্য। কিন্তু এই সামান্য ঘটনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে হৈমন্তীর চরিত্রের গভীরতম সত্য। সে শুধু বাবাকে ভালোবাসে বলেই যে তাঁর কথা বিশ্বাস করে এমনটা অর্ধসত্য| সে বিশ্বাস করে, কারণ সত্যের প্রতি তার নিজেরও এক গভীর নিষ্ঠা রয়েছে। তার কাছে সম্পর্কের অর্থ বিশ্বাস। অথচ যে সমাজে লোকলজ্জা বাঁচাতে সত্যকে আড়াল করা স্বাভাবিক, সেখানে এই নিষ্ঠাই তাকে অস্বস্তিকর করে তোলে।
রবীন্দ্রনাথের অসামান্যতা এখানেই। তিনি হৈমন্তীকে কোনও প্রচলিত বিদ্রোহীর ছাঁচে গড়েননি। সে ঘর ভেঙে বেরিয়ে যায় না, উচ্চকণ্ঠে নিজের অধিকারের ঘোষণা করে না। তার প্রতিবাদ অনেকটাই নীরব। নীরবতার অর্থ আত্মসমর্পণ? সেই আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে হৈমন্তী| সে অন্যায়ের সঙ্গে সহজে আপস করতে পারে না, নিজের বিশ্বাসকে মুছে দিয়ে অন্যের মন জুগিয়ে চলতে পারে না। তার স্বাভাবিক আচরণই হয়ে ওঠে প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে এক নীরব অবস্থান।
হৈমন্তীর ট্র্যাজেডি আরও গভীর হয়ে ওঠে তার স্বামীর চরিত্রের মধ্য দিয়ে। স্বামী তাকে ভালোবাসে। তাদের সম্পর্কের মধ্যে স্নেহ আছে, আন্তরিকতা আছে। কিন্তু সেই ভালোবাসা পরিবারের কর্তৃত্ব এবং সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো শক্তি অর্জন করে না। স্ত্রীকে ভালোবাসা আর তার পাশে দাঁড়ানো যে এক কথা নয়, রবীন্দ্রনাথ তা স্পষ্ট করে দেন।
এখানেই গল্পটি নিছক শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের বিবরণ হয়ে থাকে না। কারণ, হৈমন্তীর জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে, অসহায় করে তোলে সামগ্রিক এই সমাজ ব্যবস্থা । স্বামী হয়তো তাকে বুঝতে পারে, কিন্তু সেই বোঝাপড়াকে কার্যকর প্রতিবাদে পরিণত করতে পারে না। তার ব্যক্তিগত ভালোবাসা সামাজিক দায়বদ্ধতার সামনে দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন জাগে, একজন মানুষ ভালোবাসেন অথচ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন না—তাঁর ভালোবাসার মূল্য কোথায়? সমাজের জটিল গাণিতিক পরিসরে রবীন্দ্রনাথ এই প্রশ্নের সরল উত্তর দেন না। বরং হৈমন্তীর জীবনের মধ্য দিয়ে দেখান, সম্পর্কের মধ্যে স্নেহই একমাত্র বিচারের মাপকাঠি নয়| ভালোবাসার সঙ্গে চাই সম্মান, চাই সাহস, চাই অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়ানোর ক্ষমতা। ভালোবাসাks শেষ পর্যন্ত আসতে হয় সীমাবদ্ধতায়|
হৈমন্তীর জীবনের সবচেয়ে করুণ দিক হল, তার চারপাশে মানুষ থাকলেও সে ক্রমশ একা হয়ে পড়ে। তার কথা শোনার মানুষ নেই, তার অনুভূতিকে বোঝার পরিবেশ নেই। তার সরলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তার সত্যনিষ্ঠা অস্বস্তি সৃষ্টি করে, তার স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলে। কেউ হয়তো তাকে প্রকাশ্যে শত্রু বলে ঘোষণা করেনি। কিন্তু প্রতিদিনের অবহেলা, অপমান এবং মানসিক চাপ মিলে তার জীবনের পরিসরকে ক্রমশ সংকুচিত করে আনে।
এইখানেই ‘হৈমন্তী’ গল্পের বেদনা সবচেয়ে তীব্র। অত্যাচার প্রকট হয়েছে পরিহাসের মধ্যে, কখনও অবজ্ঞায়, কখনও এমন কিছু নিয়মের আড়ালে, যেগুলিকে সমাজ স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে। একটি মেয়েকে প্রতিদিন বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তার নিজের মতো হওয়ার অধিকার নেই। তার অনুভূতির চেয়ে পরিবারের সম্মান বড়, তার সত্যের চেয়ে সামাজিক সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। এই নীরব চাপই একসময় মানুষের ভিতরের শক্তিকে ক্ষয় করে দেয়।
হৈমন্তীর মৃত্যু প্রতিবাদ সেই সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যেখানে একজন নারীর জীবন ও আত্মমর্যাদার চেয়ে লোকদেখানো সম্মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংসারটি বাইরে থেকে টিকে থাকে, পরিবারের সামাজিক মর্যাদাও হয়তো অক্ষুণ্ণ থাকে। কিন্তু সেই সংসারের ভিতরে একটি মানুষ এভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে সেই দিকে হুঁশ থাকে না কারোর| সমাজের চোখে প্রতিষ্ঠিত পরিবারের আড়ালে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটে চলেছে, রবীন্দ্রনাথ আমাদের সেই অন্ধকারের সামনে দাঁড় করান।
হৈমন্তীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘স্ত্রীর পত্র’-এর মৃণালের তুলনা তাই স্বাভাবিকভাবেই মনে আসে। দু’জনেই এমন এক সমাজের প্রতিনিধি, যেখানে নারীর নিজস্ব সত্তাকে স্বীকার করতে পুরুষতান্ত্রিক সংসার অনিচ্ছুক। দু’জনের জীবনেই রয়েছে অবহেলা, অসম্মান এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার সংকট। কিন্তু তাঁদের পরিণতি এক নয়।
আরও পড়ুন: রবীন্দ্র আলেখ্যে নারী চরিত্রেরা, পর্ব ৩: সুন্দরী ইন্দ্রাণীর ‘প্রতিহিংসা’
মৃণাল শেষ পর্যন্ত নিজের মুক্তির পথ বেছে নিতে পারে। সংসারের পরিচিত পরিসর ছেড়ে সে নিজের অস্তিত্বকে নতুন করে আবিষ্কার করে। তার বিদায়ের মধ্যে উচ্চারিত হয় আত্মমর্যাদার স্পষ্ট ঘোষণা। হৈমন্তীর সেই সুযোগ হয় না। তার নীরবতা কোনও স্বাধীন জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ হয়ে ওঠে না; বরং তা তাকে আরও গভীর বেদনার দিকে নিয়ে যায়। মৃণাল যেখানে নিজের মুক্তির ভাষা খুঁজে পায়, হৈমন্তীর জীবন সেখানে আমাদের সামনে রেখে যায় এক অপূর্ণ প্রশ্ন।
রবীন্দ্রনাথের নারীচরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তাঁরা কেবল পুরুষের জীবনের অনুষঙ্গ হতে অসম্মত। তাঁদের নিজস্ব অনুভূতি আছে, চিন্তা আছে, আকাঙ্ক্ষা আছে। তাঁদের সুখ-দুঃখের নিজস্ব জগৎ রয়েছে। ‘হৈমন্তী’ গল্পে লেখক এই স্বতন্ত্র সত্তার কথাই মনে করিয়ে দেন। একজন নারী শুধু কারও মেয়ে, কারও স্ত্রী কিংবা কোনও পরিবারের বউ নন। তিনি নিজেও একজন পূর্ণ মানুষ। তাঁরও সত্য বলার অধিকার আছে, নিজের বিশ্বাস নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে, ভালোবাসার পাশাপাশি সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে।
আজ এত বছর পরেও ‘হৈমন্তী’ পড়লে আমাদের অস্বস্তি হয়। কারণ, গল্পটির সামাজিক প্রশ্নগুলি পুরোপুরি অতীতের বিষয় হয়ে যায়নি। সময় বদলেছে, নারীর শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, কর্মক্ষেত্রে ও সমাজজীবনে তাঁদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবু কোথাও কোথাও পরিবারের সম্মানকে ব্যক্তির সুখের উপরে স্থান দেওয়া হয়। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার নামে একজন নারীকেই বারবার মানিয়ে নিতে বলা হয়। তার পছন্দ, মতামত কিংবা আত্মমর্যাদাকে কখনও কখনও পারিবারিক শান্তির স্বার্থে উপেক্ষা করা হয়।
প্রযুক্তি সময়ের প্রগতিশীলতায় আমরা কি সত্যিই হৈমন্তীর সময়কে অতিক্রম করতে পেরেছি? আজও কি কোনও মেয়েকে নিজের স্বাভাবিক সত্তাকে আড়াল করে সংসারে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে হয় না? আজও কি সামাজিক মর্যাদা রক্ষার নামে মানুষের ব্যক্তিগত যন্ত্রণা উপেক্ষিত হয় না?রবীন্দ্রনাথের প্রশ্নেরা উত্তর পায় না আজও!
….. এতদূর লিখেই থামল স্নেহার কলম| বাবার কথা মনে পড়লেই একটা অদ্ভুত টেলিপ্যাথির জোর সে দেখেছে জীবনে| মুঠোফোনে জ্বলে ওঠে স্ক্রিনে বাবার নম্বর| অপ্রাসঙ্গিক হ্যালো শব্দে সে উত্তর দেয় না| ‘প্রবন্ধ লিখছিস বুঝি? তাই এত চুপচাপ? আজকের গল্প কি? হৈমন্তী?’ গুমোট আকাশ ভেঙে পড়ে কান্নায় |
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/N6g_XzAG6tA?si=ZiYIVYpSMxHrogxv” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>