পাওলি দাম
বাংলা নববর্ষ মানেই নতুন শুরু, নতুন আশা। তবে আমার কাছে পয়লা বৈশাখ মানেই শৈশবের অগাধ আনন্দ আর পারিবারিক উষ্ণতা। উত্তর কলকাতার বৌবাজারে বড় হয়ে ওঠা আমার। ছোটবেলার নববর্ষ উদযাপন ছিল উৎসব আর খেলাধুলায় ভরা। ভাইবোনদের সঙ্গে জমিয়ে দিন কাটত আমার। একে অপরের জামাকাপড় বদলে পরা, কুমির ডাঙা, কিতকিত, ভূতভুতের মতো খেলায় মেতে ওঠা- সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠত বিশেষ।
Advertisement
পাশাপাশি লুডো, ক্যারম, ব্যাডমিন্টন তো ছিলই। ছেলেমেয়ে ভেদাভেদ ছাড়াই একসঙ্গে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার অভ্যাস ছিল ছোট থেকেই, পরিবারে কোনও বাধা ছিল না। পয়লা বৈশাখে পরিবারের সকলের একত্রিত হওয়া ছিল এক আলাদাই আনন্দ। আসবাবপত্রের ব্যবসার সূত্রে বাবার দোকানে হালখাতার রীতি ছিল, আর সেই উপলক্ষে বিভিন্ন দোকানে গিয়ে কোল্ড ড্রিঙ্ক, পেস্ট্রি ও নানা রকম খাবার উপভোগ করতাম আমরা।
Advertisement
যদিও মা খাবার নিয়ে খুব সচেতন ছিলেন এবং বাড়ির বাইরে খাওয়া একেবারেই পছন্দ করতেন না, তবুও এই দিনটিকে একটু ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা হত। ছোটবেলায় এই দিনটিকেই মজার ছলে ‘চিট ডে’ হিসেবে উপভোগ করতাম। পয়লা বৈশাখের আগের রাত থেকেই শুরু হত প্রস্তুতি।
ভাইবোনেরা মিলে মিষ্টির বাক্স ও ক্যালেন্ডার তৈরি করতাম। পরদিন সকালে মিষ্টি এসে পৌঁছলে সেগুলি সাজিয়ে ক্রেতাদের দেওয়ার মধ্যে থাকত আলাদা আনন্দ। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও সেই স্মৃতিগুলি এখনও অমলিন। বর্তমান প্রজন্ম হয়তো সেই সহজ, আন্তরিক আনন্দের স্বাদ খুব কমই পায়।
Advertisement



