সম্প্রতি দক্ষিণী সঙ্গীত সম্মিলনীর চুয়াল্লিশতম বর্ষের বার্ষিক শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুষ্ঠান হয়ে গেল বিজয়গড়ের নিরঞ্জন সদনে। তিনদিনের এই অনুষ্ঠান নিবেদিত হয় প্রয়াত সঙ্গীতাচার্য গৌরাঙ্গ সাহার জন্মশতবর্ষ ও সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। প্রথম সন্ধ্যার তিনটি উপস্থাপনা ছিল অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।
শুরুতেই বিদূষী মন্দিরা লাহিড়ী এবং তাঁর দুই শিষ্য অনির্বাণ দাস ও দীপ্তম সিনহা বিশ্বাস সঙ্গীতজ্ঞ চিন্ময় লাহিড়ী রচিত ও সুরারোপিত বিভিন্ন বন্দিশ পরিবেশন করেন। তাঁদের তবলায় সুন্দর সহযোগিতা করেছেন আবির মুখার্জী ও হারমোনিয়ামে শুভ্রাংশু মুখোপাধ্যায়। এরপর ‘কেডিয়া ভ্রাতৃদ্বয়’ মোরমুকুট কেডিয়া ও মনোজ কুমার কেডিয়া কিরবানি রাগে সেতার-সরোদ যুগলবন্দী পরিবেশন করে শ্রোতৃমণ্ডলীর প্রশংসা লাভ করেন। তবলায় অনন্য সহযোগ দিয়েছেন প্রখ্যাত তবলাবাদক পণ্ডিত সুজিত সাহা। শেষ অনুষ্ঠানে কন্ঠসঙ্গীত শিল্পী বিষ্ণুপ্রিয়া চক্রবর্তী শোনালেন বাগেশ্রী রাগে খেয়াল ও পরে একটি ঠুংরি। তবলা ও হারমোনিয়ামে অপূর্ব সহযোগিতা করেছেন চিরঞ্জিত মুখার্জি ও দেবাশিস অধিকারী।
Advertisement
উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে দক্ষিণী সঙ্গীত সম্মিলনীর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জনার্দন গম্ভীরা এবং প্রদ্যুৎ কুমার রায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও, সঙ্গীতাচার্য প্রয়াত গৌরাঙ্গ সাহা ও প্রয়াত সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে প্রখ্যাত তবলাবাদক পণ্ডিত সুজিত সাহা ও ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দিনের প্রথম নিবেদনে কন্ঠসঙ্গীত শিল্পী সোহিনী মজুমদার পুরিয়া ধানেশ্রী রাগে শোনালেন অপূর্ব শ্রুতিরম্য খেয়াল এবং পরে ঠুংরি ও টপ্পা। শিল্পীকে তবলায় যোগ্য সহযোগিতা করেছেন এই প্রজন্মের প্রতিভাবান তবলাবাদক প্রাণগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হারমোনিয়ামে প্রদীপ পালিত। এরপর পরিবেশিত হলো প্রখ্যাত তবলাবাদক পণ্ডিত সমর সাহার তবলা লহরা। এদিন তাঁর সহযোগী হিসেবে ছিলেন তাঁরই দুই শিষ্য— সুপ্রভাত ভট্টাচার্য ও নবাগত ভট্টাচার্য। অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই লহরা বাদনকে নাগমা ধরে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন হারমোনিয়ামে হিরণ্ময় মিত্র এবং সারেঙ্গিতে তরুণ শিল্পী রোহান মিশ্র।
Advertisement
রোহান মিশ্র এই প্রথম কলকাতায় জনসমক্ষে তাঁর বাদন পরিবেশন করলেন। তৃতীয় পরিবেশনে ছিল আরেকটি শ্রুতিরম্য খেয়াল ও ঠুংরি শোনা গেল মারু বেহাগ রাগে প্রবীণ অভিজ্ঞ কন্ঠসঙ্গীত শিল্পী অর্ণব চ্যাটার্জির কন্ঠে। পরে তিনি একটি ভজন শোনান। তাঁকে তবলায় অপূর্ব সহযোগিতা করেছেন অশোক মুখার্জি ও হারমোনিয়ামে অভিজ্ঞ পণ্ডিত জ্যোতি গোহ। তৃতীয় ও শেষদিনের প্রথম উপস্থাপনায় ছিল প্রতিভাবান কন্ঠসঙ্গীত শিল্পী ব্রজেশ্বর মুখার্জির ইমন রাগে আকর্ষণীয় খেয়াল। পরে তিনি একটি ভজনও পরিবেশন করেন। শিল্পীকে তবলায় ও হারমোনিয়ামে শ্রুতিসুখকর সহযোগিতা করেছেন যথাক্রমে স্বনামধন্য শিল্পী বিভাস সাংহাই এবং রূপশ্রী ভট্টাচার্য। দ্বিতীয় নিবেদন ছিল কত্থকে খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী আলোকপর্ণা গুহ।
তিনি তাঁর অপূর্ব অঙ্গ সঞ্চালনে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তাঁর সহযোগী শিল্পীরা ছিলেন— তবলায় শুভজ্যোতি গুহ, সরোদে সুনন্দ মুখোপাধ্যায়, কন্ঠে কাবেরী দত্ত মজুমদার এবং অন্যান্য শিল্পীরা। এই সন্মেলনের তৃতীয় ও শেষ পরিবেশনে আসেন সন্তুরশিল্পী সন্দীপ চ্যাটার্জি। তাঁর যোগেশ্বরী রাগে আলাপ-জোড়-ঝালায় শ্রোতৃমণ্ডলী ছিলেন নিমগ্ন। পরে ছিলা গতকারি। পরিমল চক্রবর্তীর তবলা সহযোগিতায় বাদনপর্বটি হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত মধুর। তিনদিনের এই সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন প্রবীণ বাচিকশিল্পী সন্তোষ দাস।
Advertisement



