• facebook
  • twitter
Tuesday, 10 March, 2026

নবদ্বীপে মহা ধুমধামে পালিত শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাব মহোৎসব

নবদ্বীপের এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব তাই শুধু ভক্তদের জন্য নয়, আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির ধারক হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে মনে করছেন উপস্থিত ভক্তরা।

সংগৃহীত চিত্র

ফাল্গুনের শেষপ্রহরে যখন বাংলার আকাশে রঙের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে, তখন গঙ্গাতীরবর্তী নবদ্বীপ যেন অন্য এক আধ্যাত্মিক আবহে জেগে ওঠে। দোলযাত্রা ও শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাব মহোৎসবকে ঘিরে নবদ্বীপের গৌড়ীয় মঠে ভোর থেকেই শুরু হয় নানা ধর্মীয় আচার ও ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান। শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টানাদ ও কীর্তনের সুরে মন্দিরপ্রাঙ্গণ ধীরে ধীরে ভক্তিময় পরিবেশে ভরে ওঠে।

সকালে মঙ্গলআরতির মধ্য দিয়ে দিনের সূচনা হয়। এরপর একে একে শুরু হয় নামকীর্তন, ভজন এবং শ্রীচৈতন্যের মহা অভিষেকের অনুষ্ঠান। ফুল, আলোকসজ্জা ও বৈষ্ণব পতাকায় সজ্জিত হয়ে ওঠে গোটা আশ্রম চত্বর। ভক্তদের অনেকেই সাদা বা গেরুয়া বস্ত্র পরে, কপালে তিলক এঁকে এবং হাতে জপমালা নিয়ে নামস্মরণে অংশ নেন।

Advertisement

শুধু নদীয়া জেলা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত এই উৎসবে যোগ দিতে নবদ্বীপে আসেন। পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও অনেক ভক্ত উপস্থিত হন। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রদীপ যাত্রা, যা উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

Advertisement

এই উপলক্ষে গৌড়ীয় মিশনের আচার্য ও সভাপতি Bhakti Sundar Sannyasi Maharaj জানান, ‘আজ থেকে প্রায় ৫৪০ বছর আগে চন্দ্রগ্রহণের দিনেই মহাপ্রভু Chaitanya Mahaprabhu আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর এই তিথি বিশেষ মর্যাদায় পালন করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহাপ্রভুর ৫৪০তম আবির্ভাব বর্ষ উপলক্ষে এ বছর ৫৪০টি প্রদীপ প্রজ্বলনের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ প্রার্থনা ও কীর্তনের মাধ্যমে তাঁর প্রেম ও ভক্তির বার্তা স্মরণ করা হয়েছে।’

উৎসব উপলক্ষে লাল ও সাদা বস্ত্র পরিহিত শিশু, যুবক এবং মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে তারা গোটা পরিবেশকে ভক্তিময় করে তোলেন। ‘হরিবোল’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মঠ ও আশপাশের এলাকা।

গৌড়ীয় মিশনের আচার্যের মতে, বর্তমান সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে বিভাজন, হিংসা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, তখন শ্রীচৈতন্যের প্রেম, ভক্তি ও ঐক্যের বার্তা নতুন করে মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁর শিক্ষা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার পথ দেখাতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

নবদ্বীপের এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব তাই শুধু ভক্তদের জন্য নয়, আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির ধারক হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে মনে করছেন উপস্থিত ভক্তরা।

Advertisement