ওড়িশায় একটি ধারাবাহিকের আউটডোর শুটিং চলাকালীন টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চলচ্চিত্র মহলে। ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির ফল— সেই প্রশ্ন ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে টলিপাড়ায়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশার বালেশ্বরে একটি বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, শুটিং সেটে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়নি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেই শিল্পী ও কর্মীদের কাজ করতে হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ, তবুও ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংগঠন।
ঘটনার পর সর্বভারতীয় চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠন (AICWA) প্রধানমন্ত্রী দফতরের কাছে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। ওড়িশা সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাছেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও রিপোর্ট তলব করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী দফতরের তরফে। একইসঙ্গে গোটা ঘটনার তদন্তে বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠনের অভিযোগে প্রযোজনা সংস্থা এবং শুটিং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, যদি তদন্তে কোনও গাফিলতির প্রমাণ মেলে, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
শুধু চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠনই নয়, শিল্পী মহলের বিভিন্ন প্রতিনিধিও এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আউটডোর শুটিংয়ে কাজ করা শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রযোজনা সংস্থার অন্যতম দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে কোনও ঘাটতি থাকলে তার জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন।
রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে চলচ্চিত্র জগতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকায় আউটডোর শুটিংয়ের ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো বিষয়গুলি কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এখন সকলের নজর তদন্তের দিকে। বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল বা প্রশাসনিক তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং কোনও গাফিলতির প্রমাণ মেলে কি না, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ। একইসঙ্গে এই ঘটনা ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র শিল্পে নিরাপত্তা বিধি আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।