মঙ্গলবার সকাল থেকেই কার্যত স্তব্ধ টলিপাড়া। শিল্পীদের ডাকে শুরু হয়েছে কর্মবিরতি, যার জেরে কলকাতার বিভিন্ন স্টুডিওতে দেখা গিয়েছে জনশূন্যতা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম। আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, ৭ এপ্রিল ‘ওয়ার্কিং ডে’ হলেও সেদিন সব ধরনের শুটিং ও কাজ বন্ধ থাকবে।
সোমবার ফোরামের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে সকল সদস্যকে টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে উপস্থিত থাকতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই একে একে হাজির হন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, বনি সেনগুপ্ত, পার্নো মিত্র, শ্বেতা ভট্টাচার্য, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, রুবেল দাস, জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অনন্যা চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে। তবে প্রবীণ শিল্পী ও আউটডোর শুটিংয়ে যুক্তদের ক্ষেত্রে এই উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
এই কর্মসূচির পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ এসওপি বা নির্দেশিকা স্বাক্ষরের কথাও রয়েছে, যার জন্যই সকলকে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফোরামের তরফে জানানো হয়েছে, সংগঠনের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রের খবর, এদিন একাধিক জরুরি বৈঠকও নির্ধারিত রয়েছে। তার মধ্যে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। এছাড়াও, শিল্পীদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আগেই জানানো হয়েছিল, ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, প্রযোজক এবং চ্যানেল প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সমস্ত শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার এক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ একাধিক তারকা।
সব মিলিয়ে, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালমৃত্যুর প্রভাব সরাসরি পড়েছে টলিউডে। শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে সমস্ত শুটিং, আর পরিস্থিতির উন্নতির দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা ইন্ডাস্ট্রি।