অতনু রায়
রাজ্যজুড়ে সিঙ্গল স্ক্রিনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যাওয়ায় বিচলিত ইন্ডাস্ট্রির সবাই। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আগেই রাজ্য সরকারকে কিছু ছোট সিনেমাহল তৈরির প্রস্তাব দেন। এই বিষয় মাথায় রেখে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সম্প্রতি রাজ্যের বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভে প্রসেনজিৎকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনি সিনেমা পলিসি ২০২৫’।
বাংলার সিনেমা কিছুটা অতিরিক্ত অক্সিজেন পাবে হয়ত। এর আগে নাটকের দলগুলো সীমিত দর্শকাসন নিয়ে ব্ল্যাক-বক্স থিয়েটারের প্রচলন করে সেটাকে সফল বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে ডিজিটাল প্রদর্শনের ব্যবস্থা আসার পরে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা বদলে দেওয়ার মতো টেকনোলজি হাত বাড়ালেই পাওয়া সম্ভব। এসময় এই পলিসি যুগান্তকারী। কোনো রাজ্যের সরকার এই ধরনের নীতি এই প্রথম আনল। প্রসেনজিৎ রাজ্যের প্রথম মিনি সিনেমাহল তৈরি করছেন।
মিনি সিনেমা পলিসির উদ্দেশ্য: প্রথমত, বাংলা সিনেমার উন্নয়ন। দ্বিতীয়ত, সিনেপ্রেমীদের একটা নতুন রকমের অভিজ্ঞতা দেওয়া। তৃতীয়ত, স্থানীয় ব্যবসার উন্নতি সুনিশ্চিত করা। চতুর্থত, শহরতলীর প্রায় অব্যবহৃত ছোট ছোট অডিটোরিয়ামগুলোর ব্যবসার জায়গাটা বাড়ানোর চেষ্টা করে সেটাকে বিনোদনের কাজে ব্যবহার করা।
যেমন হবে মিনি সিনেমাহল: শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়ামে মোটামুটি ৫০জন দর্শক একসঙ্গে সিনেমা দেখতে পারবেন। স্ক্রিন হতে হবে এলইডি ডিজিট্যাল ডিসপ্লে বোর্ড। ডিসপ্লে বোর্ডের অবস্থান এমনভাবে করতে হবে যাতে একদম প্রথম সারিতে বসে থাকা দর্শকের চোখ থেকে ডিসপ্লের উপরের অংশ কখনোই যাতে ৪৫ ডিগ্রির বেশি না হয়। সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত ডেস্কটপ কম্পিউটার থেকে সরাসরি স্ক্রিনে প্রজেকশন হবে। যতক্ষণ স্ক্রিনিং চলবে, একজনকে কম্পিউটারের সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। কোনো হাইভোল্টেজ পাওয়ার সাপ্লাই প্রয়োজন নেই। শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এবং ডিজিট্যাল ডিসপ্লেতে কোনও শর্টসার্কিট হয়ে অগ্নিসংযোগ রুখতে প্রয়োজনীয় ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা রাখতে হবে। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করবেন আবেদনকারী।
মিনি সিনেমার লাইসেন্স পেতে জরুরী ডকুমেন্টস: এক, আবেদনকারীকে ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স থেকে কোম্পানি রেজিস্টার করতে হবে। দুই, আবেদনকারীর প্যান কার্ড। তিন, আবেদনকারীর নামে প্রস্তাবিত জায়গার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট অথবা লিজের জায়গার ক্ষেত্রে লিজের দলিল। চার, স্থান বিশেষে কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যালিটি বা পঞ্চায়েত থেকে সার্টিফায়েড সাইট প্ল্যান। পাঁচ, আবেদনকারীর ট্রেড লাইসেন্সের কপি। ছয়, যেই বিল্ডিংয়ে সিনেমাহল হবে সেই বিল্ডিংয়ের ফিটনেস সার্টিফিকেট। সাত, ডিরেক্টরেট অফ ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস থেকে ফিটনেস অফ ফায়ার প্রটেকশন সার্টিফিকেট। আট, ডিরেক্টরেট অফ ইলেকট্রিসিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশনের ফিটনেস সার্টিফিকেট।
কীভাবে পাওয়া যাবে লাইসেন্স: মিনি সিনেমার জন্য জায়গা বাছাই করার পরে আবেদনকারীকে কলকাতার ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনার এবং জেলার ক্ষেত্রে জেলাশাসকের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সহ সংস্থার লেটারহেডে আবেদন করতে হবে। এরপরে, পুলিশ কমিশনার বা জেলাশাসক একটা ইন্সপেকশন করে দেখবেন যে আদতে জায়গাটা মিনি সিনেমাহল তৈরির উপযুক্ত কিনা। সব ঠিক থাকলে সাত দিনের মধ্যে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেওয়া হবে। যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে, আবেদনকারীকে সাত দিনের মধ্যেই জানানো হবে। সমস্যার সমাধান করে জানালে আবার একবার ইন্সপেকশন হবে এবং সব ঠিক থাকলে সাত দিনের মধ্যে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দিয়ে দেওয়া হবে।
‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পরে আবেদনকারীকে সংস্থার লেটারহেডে কলকাতার মধ্যে হলে পুলিশ কমিশনারের কাছে এবং কলকাতার বাইরে হলে জেলাশাসকের কাছে ‘পার্মানেন্ট সিনেমা লাইসেন্স’ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। প্রত্যেকটা আবেদন পত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমস্ত ডকুমেন্টস দিতে হবে।
আবেদনকারী যদি মিনিসিনেমা চত্বরে খাবার বিক্রি বা বিলি করতে চান সেক্ষেত্রে স্থানীয় কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যালিটি বা পঞ্চায়েতে থেকে ফুড সেফটি সার্টিফিকেট নিতে হবে। সমস্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাওয়ার পরে লাইসেন্সিং অথরিটি আরেকবার ইন্সপেকশন করতে পারেন। সমস্ত নথি, লাইসেন্সিং ফি ঠিকঠাক জমা হয়ে গেলে সাত দিনের মধ্যে লাইসেন্স ইস্যু করে দেওয়া হবে। লাইসেন্স পাওয়ার এই সম্পূর্ণ পদ্ধতিটা চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সমস্ত বিষয়ের চলাকালীন আবেদনকারীর কোনো রকমের অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ডিরেক্টর অফ ফিল্-এর প্রধান সচিবকে জানাতে পারবেন।