অতনু রায়
উত্তর কলকাতা। শ্যামবাজার-বাগবাজার অঞ্চল। বাইরের তাপমাত্রা ৩৮-৩৯ ডিগ্রি। রোদের দাপটে অনুভব হচ্ছে ৫০ ডিগ্রির বেশি। তার মধ্যেই রাস্তা দাপিয়ে চলছে ‘রেখা’র শুটিং। শ্যামবাজারের মোহনলাল স্ট্রিটের পাশেই রেখার বাড়ি। সিনেমাটোগ্রাফার অনিল চন্দেল ভিউফাইন্ডারে চোখ রেখেছেন রেখাকে ফ্রেমবন্দী করতে। কিছু আগেই এই বাড়িতে দোতলায় উঠতে যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছেন হাঁটুর ব্যথা নিয়ে। কিন্তু ক্যামেরা ওঁকে ধরতেই পারফেক্ট মুডে রেখা… মমতাশঙ্কর। শট শেষ করে দোতলা থেকে নামতেই কয়েকজন ঘিরে ধরল ওঁর সঙ্গে একটা ছবির আবদারে। তারা ছবি তুলতে চায় নৃত্যশিল্পী মমতাশঙ্করের সঙ্গে।
আসলে ওঁর মনের যোগাযোগ সবার সঙ্গে সরলরেখায়। পরিচালক অনুপ দাসের নির্দেশ, মুখের অভিব্যক্তিতে প্রেমের ভাব থাকবে। অক্ষরে অক্ষরে মেনে এক টেকে ওকে করল বুলি… ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এই রোদে রাস্তায় নায়িকাকে শট দিতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের ফিসফিসানি, ‘সামনে থেকে কী সুন্দর দেখতে! এই রোদেও হাসিমুখে অভিনয় করছে!’ প্রখর রোদেও ঋতু যেন বর্ষা বয়ে আনে। ওঁর ভাবনায়, ‘আমি দিনের শেষে একজন লেবার। শ্রম করেই উপার্জন করি।
রোদ-জলের অজুহাত কেন দেব? আমি তো তাও মেকআপ ভ্যানে বসতে পারি। আমাদের এতবড় ইউনিট যে
চোদ্দ-পনেরো ঘন্টা রাস্তায় থাকছে ছবিটাকে ভাল করতে!’ শট রেডি নয় তখনও। অমিয় বারবার শুটিং স্পটে চলে আসে। ইতস্তত ঘোরাফেরা করা, অন্যের শট দেখতে মনিটরে চোখ রাখা। আরামে বসার জন্য মেকআপ ভ্যান আছে। তাও অভিনেতা বারবার এই গরমে বেরিয়ে পড়েন। পরিচালক অস্বস্তিতে পড়েন। কিন্তু, দীর্ঘসময় মুম্বইতে থাকলেও তা তাঁর বাঙালিয়ানাকে গ্রাস করতে পারেনি। উত্তর কলকাতা পেল খাঁটি বাঙালি অমিয়কে… সায়ন মুন্সি। আসল কথা, পেশাদারিত্ব। বাংলা ছবির বাজেট কম, সীমাবদ্ধতা বেশি… সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে বাংলা ছবির মমতাশঙ্কর, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মতো বেশ কয়েকজন শিল্পী আছেন যাঁরা কখনও নিজেদের উচ্চতার নিরিখে কতটা ‘কমফোর্ট’ প্রাপ্য, সেটা ভাবেননি।
জাতীয় স্তরে কাজ করেও যাঁরা কখনও বাংলা ছবির হাত ছেড়ে দেননি, বরং আরও চেপে ধরেছেন। তাই কালের নিয়মে উত্তর কলকাতা ছুঁয়ে আরও গাঢ় হল ‘রেখা’।