অতনু রায়: সাম্প্রতিক বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রির সব থেকে সফল ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম দ্বন্দ্ব। কখনও পরিচালক বনাম ফেডারেশন তো কখনও প্রযোজক বনাম ইম্পা (ইষ্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন) বারবার তাল কাটছে।
স্ক্রিনিং কমিটি এবং ইম্পার কার্যকলাপ কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না প্রযোজকদের একাংশ। একটা ছন্দপতন ঘটেছে সেটা ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে কান পাতলেই বোঝা যায়। বারবার উঠছে সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের আঙুল। অভিযোগের সুর বাংলার অন্যতম প্রধান প্রযোজক ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশনের কর্ণধার ফিরদৌসুল হাসানের কথাতেও।
আগামী ১৯ মার্চ মুক্তি পেতে চলেছে প্রযোজনা সংস্থার নতুন ছবি ‘কর্পূর’। একই দিনে মুক্তি পেতে চলেছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। ‘ধুরন্ধর’-এর আকাশছোঁয়া সাফল্যের পর এই ছবি নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। এমন একটা ছবির সঙ্গে কেন নিজের ছবি রিলিজ করাতে চাইছেন জানতে চাওয়ায় যে কথা বললেন ফিরদৌসুল, তা কিন্তু বিস্ফোরক।
ফিরদৌসুল বলেন, ‘আমার মোটেই ইচ্ছে ছিল না ছবিটা এই সময়ে মুক্তি দেওয়ার। আমি নিজে স্ক্রিনিং কমিটির একজন অন্যতম সদস্য। ২০২৫ এর শেষে ইম্পার তরফ থেকে ২০২৬ সালে কোন প্রযোজক ক’টা করে ছবি মুক্তি দিতে চান জানতে চাওয়া হয়। আমি সেই মর্মে মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দিই যে আমি ২০২৬ সালে চারটে ছবি মুক্তি দিতে চাই। তার আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যে প্রযোজক চারটে ছবি বানাবেন তিনি দুটো প্রাইম রিলিজ ডেট পাবেন। আমাকে জানানো হয় আমিও দুটো প্রাইম রিলিজ ডেট পাব। আমি ২৩ জানুয়ারি ডেট চাই। আমি জানাই মে মাসের মধ্যেই আমার তিনটে ছবির মুক্তি আছে। পয়লা বৈশাখের ডেটটাও চাই। আমাকে বলা হয় কিছু ছবি ২০২৫-এর ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তারা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তাই তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গেই হাসিমুখে ডেট ছেড়ে দিই। তারপরে আমি একাধিক মেইল করে ইম্পা সভাপতির কাছে অন্য ডেট চাই। ফোনেও কথা হয়। আমি প্রচন্ড অবাক হই যখন দেখি যে ২০২৬-এর প্রথম ৬ মাসের ছবি মুক্তির যে ক্যালেন্ডার প্রকাশ হল, তাতে ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশনকে কোনও ডেট দেওয়া হল না! তারপরেও আমি মেইল করি সভাপতিকে, কিন্তু সৌজন্য স্বরূপ কোনো উত্তর তাঁর কাছ থেকে আমি এখনও পাইনি। একজন নিয়মিত ছবি বানাতে থাকা সদস্য হিসেবে যদি আমি এইটুকু আশা রাখি, তা কি অন্যায়?’
এই বিষয়ে ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ফিরদৌসুল হাসান নিজেই এই ডেটটা চেয়েছেন। এখন তিনি যদি অন্য কথা বলেন আমার কিছু করার নেই। ওঁর সাথে আমার তো কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। তাই যেরকম ভাবে সবার কথা ভাবা হয়েছে, ওঁর কথাও ভাবা হয়েছে।’
ফিরদৌসুল এই বিষয়ে বলেন, ‘আমাকে বলা হয় এত তো ডেট খালি আছে, আপনি আপনার মত করে নিন। তখন আমি ডেট বেছে নিই এবং আবার সৌজন্য স্বরূপ ইম্পাকে মেইল করে জানাই যে আমি ১৯ মার্চ আমার ছবি রিলিজ করছি। আমি আমার নিজের বাধ্য হয়ে ঠিক করা ডেট তাঁকে ইনফর্ম করেছি, চাইনি। আমার শিক্ষা, রুচি, ভদ্রতার জন্য আমি তাঁকে জানিয়েছি। তিনি যদি বলেন যে আমি ডেট চেয়েছি, সেটারও কি তিনি কোনো উত্তর আমাকে দিয়েছেন?’
ফিরদৌসুল আরও বলেন, ‘একজন প্রযোজক হয়েও এই বৈমাত্রেয় সুলভ আচরণ আমাকে পেতে হলে সেটা খুবই অপমানজনক এবং বিস্ময়ের। ইম্পার একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার পরেও একজন প্রযোজকের একাধিক মেইল আসলেও কেন উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলেন না সভাপতি আমি সত্যিই জানি না। আমার যেটুকু জানা আছে যে ইম্পা তৈরি হয়েছে প্রযোজকদের পাশে থাকবার জন্য। প্রযোজকের স্বার্থরক্ষা না হলে কী লাভ? আজকে চারজন বা পাঁচজন হলমালিক তাঁদের অসুবিধার কথা জানানোর জন্য ইম্পা মিটিং ডাকতে পারে, কেন একজন প্রযোজক বারবার মেইল করে তাঁর কথা জানানোর পরেও কিছুই হয় না! এমনকী ক্যালেন্ডার ঘোষণার দিন মিটিংয়ের আগেও আমার সভাপতির সঙ্গে কথা হয় ফোনে। তিনি জানতেও চান আমি মিটিংয়ে আসছি কিনা।’
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের খবর, ক্যালেন্ডার প্রকাশের দিন ফিরদৌসুল হাসান উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে মিটিংয়ের আগে ফোনে কথা এবং একাধিকবার মেইল করলেও মিটিংয়ে তাঁর বা তাঁর প্রযোজনা সংস্থার নাম আলোচনাতেই আসেনি।তবে এটাও একটা ব্যাপার যে ১৯ মার্চ শুধুমাত্র একটি বাংলা ছবিই মুক্তি পাচ্ছে। বাংলা ছবির শো বন্টনের নিয়ম মনে করিয়ে ফিরদৌসুলের দাবি, ‘নিয়ম অনুসারে সমস্ত সিনেমাহলেই তো প্রাইম টাইমে অন্ততপক্ষে একটি বাংলা ছবিকে শো দিতে হবে। সেক্ষেত্রে যখন একটাই বাংলা ছবি রিলিজ হচ্ছে তাহলে নিশ্চয়ই সমস্ত হলেই একটা করে প্রাইম টাইম শো আমি পাব। যেখানে সবাই বলছেন যে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর মতো ছবির সঙ্গে নিজের ছবি মুক্তি প্রযোজক হিসেবে সাহসিকতার পরিচয়, তাহলে এটুকু তো আমার নিশ্চয়ই প্রাপ্য হওয়া উচিত? যদিও আমি এখন কিছুই বলতে পারব না, তবে আশায় থাকব। ঠিক যেমন ভাবে আশায় আছি যে পরবর্তীতে নিশ্চয়ই আমি ইম্পার সহযোগিতাও পাব।’
প্রসঙ্গত, ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন ও কাহাক স্টুডিও প্রযোজিত ‘কর্পূর’ ছবিতে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, ব্রাত্য বসু, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্পণ ঘোষাল, লহমা ভট্টাচার্য ও আরও অনেকে।