হইচইতে এসে গেল কালরাত্রি ২ এবারের অভিজ্ঞতা কেমন?
সৌমিতৃষা: আমি প্রথমেই থ্যাঙ্কস জানাবো আমার পরিচালক অয়ন স্যারকে। আমার মতো একজন জুনিয়রকে এতো টাফ একটা চরিত্রের জন্য উনি ভরসা করেছেন। আমি কতটা ওনাকে ডেলিভার করতে পেরেছি সেটা একমাত্র উনি জানেন। আর দর্শক বলবে তাদের কেমন লেগেছে। কিন্তু আমি নিজে এই কাজটা করে ভীষণভাবে আনন্দ পেয়েছি। আমার কাছে কিন্তু এই কাজটা একটা স্বপ্নের মতন বলা যেতে পারে। স্যার আমাকে এত ভালো ওয়ার্কশপ করিয়েছেন, যার জন্য আমার কাছে এই কাজটা একটা চ্যালেঞ্জের ছিল। আমার বিশ্বাস দর্শকরা আমাকে এই চরিত্রের জন্য মনে রাখবে।
অয়ন: সৌমিতৃষা যেমন বাধ্য ছাত্রী। ঠিক তেমনি পরিশ্রমী। চরিত্রটা নিয়ে ওর অনেক প্রশ্ন ছিল। আমি ঠিক ওকে যেভাবে বোঝাতাম ও কিন্তু সেটা খুব সুন্দর ডেলিভার করত।
অয়নদা তোমার কালরাত্রি দর্শকরা দেখেছে। অলরেডি দর্শকদের ভালোলাগা-মন্দলাগা তুমি জানো। এবার কালরাত্রি ২। কতটা চ্যালেঞ্জ তোমার কাছে?
অয়ন: খুব হেসে চ্যালেঞ্জে না দর্শকদের ভালোবাসা। কালরাত্রি ওয়ান যারা দেখেছেন তারা জানে সেখানে যে রহস্যের জাল বোনা হয়ে ছিল এবার সেই রহস্যগুলোর সমাধান হবে এবং এই টুতে এসেও আরও কিছু রহস্য তৈরি হবে তার সমাধান পাওয়া যাবে। তবে দর্শকদের জন্য বলব কালরাত্রি ওয়ান যারা দেখেননি, তাদেরকে অনুরোধ করব ওয়ান দেখে দুই দেখুন। তাহলে আসল মজাটা পাবেন।
অয়নদা তোমার কি থ্রিলারের প্রতি আলাদা ভালোবাসা আছে?
অয়ন: একদম। থ্রিলারের প্রতি আমার একটা হিচককীয় প্রেম এবং প্যাশন আছে। আমি সবসময় থ্রিলার জনারটাকে বেশি পছন্দ করি। আমি সারা দেশ-বিদেশের থ্রিলার বই পড়া থেকে শুরু করে। থ্রিলার ছবি দেখতে খুব ভালোবাসি। এই জনারটা আমার কাছে খুবই সহজাত।
সৌমিতৃষা ছোটপর্দা থেকেই তোমার একটা আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে, ওটিটি এবং সিনেমা সব মিলিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
সৌমিতৃশা: আমি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। কেন জানো আমি এখনও পর্যন্ত দারুণ সব চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ছোটপর্দা, ওটিটি, সিনেমা প্রতিটা জায়গাতেই আমি দারুণ দারুণ চরিত্র পেয়েছি। আমি এ ব্যাপারটায় বরাবরই খুব কনসাস। আমি কম কাজ করি। সবসময়ই ভালো চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। আমার মনে হয়েছে আমি প্রচুর চরিত্র করলাম কিন্তু সেগুলো দর্শকদের মনে সেভাবে দাগ কাটলো না এমন কাজ আমি করবো না। আর এর জন্য আমি অবশ্যই থ্যাঙ্কস জানাই আমার প্রোডাকশন হাউসকে। তারা আমাকে সেইভাবে বেছে ভালো চরিত্র দেন।
অয়নদা ওটিটিতে কাজ করার স্বাধীনতা বেশি, না সুবিধে বেশি?
অয়ন: ওটিটিতে কাজের সুবিধা অনেক বেশি। নতুনভাবে একটা জিনিসকে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখা যেতে পারে। এখন মানুষের জীবনযাত্রা অনেকটা বদলে গেছে। অনেক বেশি পরিমাণ কনটেন্ট-এর কাজ হচ্ছে। অনেক বেশি কিছু তোমার সামনে রয়েছে। তোমার যেটা ভালো লাগছে দেখছো। ভালো না লাগলে সরিয়ে দিচ্ছ। সেখানে প্রচুর মানুষ খুঁজে আমার কালরাত্রি দেখেছে এবং ফোন করে জানিয়েছে কেন ভালো লেগেছে। আমি অভিভূত। আমার যেটা ভালো লেগেছে সেটা হল, এত কন্টেন্টের মধ্যেও দর্শকরা যে আমার এই সিরিজটা দেখেছেন এবং এটা হিন্দিতেও হয়েছে।
এখন সবচেয়ে বেশি থ্রিলার জনার নিয়ে কাজ হয়। দর্শকদের রুচি বদলেছে নাকি মানুষ বেশি জটিল হয়ে যাচ্ছে?
অয়ন: বাঙালির থ্রিলারের প্রতি প্রেম বরাবর ছিল। বাঙালি থ্রিলার পড়তে ভালোবাসে, দেখতে ভালোবাসে। দর্শকের রুচি একদম বদলায়নি। বাঙালি একটা ভীষণ বুদ্ধিমান জাতি। আমাদের এখানে কত বছর আগে দারোগার দপ্তর বলে গোয়েন্দা গল্প লেখা শুরু হয়েছে। তারপরে বহু লেখক গোয়েন্দা গল্প লিখেছেন।
সুকুমার সেন পর্যন্ত গোয়েন্দা গল্প লিখেছেন। এতগুলো গোয়েন্দা গল্প মানুষ পড়েছে তার মধ্যে ফেলুদা, ব্যোমকেশ তো আছেই। এখনো নতুন নতুন লেখকরা দারুণ সব থ্রিলার সিরিজ লিখছেন, তাদের বইও বের হচ্ছে। আবার এই সিনেমা বা ওটিটির মাধ্যমে তা দর্শকদের প্রেজেন্ট করা হচ্ছে। দর্শকরা এগুলো দেখে তাদের মতো করে একটা সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে।
কালরাত্রি দেখে কত দর্শক তাদের মতো করে আমাকে সমাধান জানিয়েছে।
বিভিন্ন কাজের বিভিন্ন জার্নি থাকে। সৌমিতৃষাকে কালরাত্রি ২ কতটা পরিণত করল?
সৌমিতৃষা: আসলে আমি অয়ন স্যারের কাছ থেকে প্রচুর কিছু শিখেছি। দেবী চরিত্রটা আমাকে যেমন শিখিয়েছে তেমন অনেক পরিণত করেছে। আমাদের কাজের মধ্যেই প্রতিদিন কিছু না কিছু শিখি। এই কাজে স্যার আমাদের অনেক স্বাধীনতা দিয়েছেন। শুধু আমাকে নয় সব অভিনেতা অভিনেত্রীকেই স্বাধীনতা দিয়েছেন।
আমার দায়িত্ব তখন দ্বিগুণ বেড়ে যায়, কাজটা আমাকে ভালো করতেই হবে। তবে, কো-অ্যাক্টর থেকে সাউন্ড ডিজাইনার— সবার থেকেই কিছু না কিছু শিখেছি।
অয়নদা সিরিজ হিট করলে কতটা চাপ বেড়ে যায় দ্বিতীয় সিরিজে জন্য?
অয়ন: শুরুটা কিভাবে করব আর সিরিজ শেষটা কিভাবে করব এটা সব সময় আমার মাথায় থাকে। বাকিটা লিখতে লিখতে গল্পটা এগিয়ে চলে। সেটা নিখোঁজের সময় ও হয়েছে কালরাত্রির ক্ষেত্রেও হয়েছে। প্রথম সিরিজের থেকে দ্বিতীয় সিরিজটা যেন আরও বেশি জমজমাট হয়। এটা একটু খেয়াল রাখতে হয়।
প্রথম সিরিজটা দেখার পর দর্শকরা অনেক বেশি একাত্ম হয়ে যান। তাদের মনের মধ্যেও নানারকম ভাবনা চলতে থাকে। তারা ভাবেন এই রহস্য তারা সমাধান করতে পারবেন। কালরাত্রে ওয়ান দেখে আমাকে ফোন করে দর্শকরা বলেছেন ‘আমি জানি খুনিকে। আমাকে এমন একজন বলেছে আমি জানি কে এক্ষুনি সে যদি না হয় তাহলে আমি আর তোমার কোন সিরিজ দেখবো না’। (হেসে)
দর্শকদের কি বলবে সৌমিতৃষা?
সৌমিতৃশা: এবারে ঠান্ডা খুব জমিয়ে পড়েছে তাই বাড়িতে বসে হইচইতে আমাদের এই সিরিজটা দেখুন। আশা রাখি আপনাদের হতাশ করব না। আমি অভিনয় করেছি বলে বলছি না। এখানে সবাই সত্যি দারুন কাজ করেছেন। কালরাত্রি ২ দেখুন ভালো লাগবে।