স্বপ্ন ছোঁয়ার গল্প ‘অদম্য’

নিজস্ব গ্রাফিক্স চিত্র

‘অদম্য’ ছবির মাধ্যমে কোন স্বপ্ন ছোঁয়ার বার্তা তোমরা দিতে চেয়েছো?

আরিয়ুন: শহিদ ভগৎ সিংয়ের কর্মকাণ্ড বা কবি সুকান্ত তাঁর লেখায় যে আগুন ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা যদি বর্তমান সময়ে হতো, তাহলে কেমন হতো! তাঁরা যদি আজ এই পৃথিবীতে থাকতেন! তাহলে দেশজুড়ে, রাজ্য জুড়ে বা গোটা পৃথিবীতে যা-যা চলছে তার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের রিঅ্যাকশন কী হত? এই বিষয়ভাবনা থেকেই রঞ্জনদার মাথায় একটা সিঙ্গল ক্যারেকটার নিয়ে ছবি তৈরির প্ল্যান আসে এবং ‘অদম্য’ সৃষ্টি হয়।

ছবি তৈরির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ছক ভেঙেছে ‘অদম্য’। মাত্র ছ’জন মিলে তৈরি করেছ একটা গোটা সিনেমা। এই অসম্ভবটা সম্ভব হল কী করে?


আরিয়ুন: আমরা ছ’জন মিলে ‘অদম্য’ তৈরি করেছি। তাই আমরা বলি ‘‘ছ’য়ে ছবি’’। একবার আমার জন্মদিনে রঞ্জনদা আমাকে টেক্সট করে বলে, ওঁর এরকম একটা কনসেপ্ট রয়েছে। তারপর অনেক সময় এগিয়েছে। আমরা সুন্দরবন গিয়ে পয়েন্টার্স রেডি করেছি। তারপর পন্ডিচেরি ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে এক মাস থেকে ‘অদম্য’-র স্ক্রিপ্ট রেডি হয়েছে। ফিরে এসে বহুবার আমরা সুন্দরবন গিয়েছি। এরপর আমার চারজন বন্ধুকে জোগাড় করে টানা চারমাস সুন্দরবনে থেকে ‘অদম্য’ তৈরি হয়েছে।

তুমি এবং পরিচালক রঞ্জন ঘোষ গ্রামেগঞ্জে গিয়ে ছবির টিজার দেখিয়েছো। এরকম ব্যতিক্রমী
ভাবনা কেন?

আরিয়ুন: আমরা কিন্তু জোর করে গ্রামের মানুষদের টিজার দেখাইনি। ওই প্রান্তিক মানুষগুলোর আবদার ছিল, আমরা সেটুকুই পূরণ করেছি মাত্র। কারণ গ্রামবাসীরাই বলেছিলেন, ‘আমাদের এখানে শ্যুটিং হচ্ছে, আমাদের নিয়ে কাজ করছেন, সবার আগে আমাদের দেখাতে হবে।’ তাই আমাদের মাথায় আসে আমরা ছবির ঝলক তাঁদেরই প্রথম দেখাব। টিজার দেখে গ্রামবাসীদের যে উচ্ছ্বাস, তা আমাদের পরম সঞ্চয়। কাকদ্বীপে একটি সিনেমা হল ছিল। সেটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সিনেমা হল নেই। আমাদের ছবির টিজার দেখে উচ্ছ্বাসে আপ্লুত গ্রামবাসীরা। নিজেদের সিনেমায় দেখে দারুণ উচ্ছ্বসিত তাঁরা। গ্রামবাসীরা বলেছেন, ‘আপনারা আসুন এখানে। পর্দা টাঙিয়ে সাউন্ড সিস্টেম জোগাড় করে আমরা গ্রামে সিনেমা দেখাবো।’— এ আমাদের পরম পাওয়া।

দর্শক থেকে সমালোচক মহলেও ‘অদম্য’ প্রশংসিত। কিন্তু, সেভাবে হল পাওয়া যাচ্ছে না। এই সমস্যা কীভাবে মোকাবিলা করছ?

আরিয়ুন: দর্শকদের এত ভালোবাসা পাওয়ার পরেও ছবি হল পাচ্ছে না। আমরা যে ক’টা শো পেয়েছি, সেই শো কিন্তু হাউসফুল যাচ্ছে। নন্দন এবং সাউথ সিটিতে দর্শক উজাড় করা ভালোবাসা দিয়েছেন। উইক ডে’জ-এও অপ্রত্যাশিত ভিড় হয়েছে। সপ্তাহের মাঝে দুপুর দু’টো বা বিকেল চারটের শোতে সেভাবে ভিড় হয় না। কিন্তু, তাও আমাদের ছবি দেখতে দর্শক হলে এসেছেন। দর্শকদের রিঅ্যাকশনই আমাদের হয়ে সব কথা বলে দিচ্ছে।

এরপরে কি সুন্দরবনে গিয়ে ছবি দেখানোর প্ল্যান রয়েছে?

আরিয়ুন: হ্যাঁ। হল থেকে ছবি চলে যাওয়ার পর আমাদের প্ল্যান রয়েছে কোনও ইউনিভার্সিটিতে বা সুন্দরবনে গিয়ে সেই মানুষদের নিমন্ত্রণে ‘অদম্য’ দেখানোর।

একক চরিত্রে অভিনয় আরিয়ুনের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?

আরিয়ুন: এক্ষেত্রে আমার থিয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ড আমাকে ভীষণভাবে সাহায্য করেছে। এছাড়াও আমি অনেক ন্যাশনাল টিভিসি করেছি। রঞ্জনদাকে প্রায় আট-নয় বছর ধরে অ্যাসিস্ট করার কারণে সিনেমার সেট সম্পর্কে ধারণা আমার কাছে ভীষণ ক্লিয়ার ছিল। এই বিষয়গুলো খুব সাহায্য করেছে আমাকে।

প্রথম থেকেই অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছে ছিল?

আরিয়ুন: ছোটবেলায় সবাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আমিও ওরকমই ছিলাম। কিন্তু, যখন থেকে আমার জ্ঞান হল তখন থেকেই আমার সিনেমার সঙ্গে ভালোবাসা বাড়ল। তাই আমি পড়াশুনার পাশাপাশি আমার থিয়েটারটা চালিয়ে গিয়েছি। শুধু অভিনয় করাই আমার লক্ষ্য ছিল না। অভিনয়ের জন্য যা-যা জানা দরকার সেই খুঁটিনাটি বিষয়ে জানার জন্য আমি থিয়েটার জয়েন করি। ক্যামেরার পিছনের বিভিন্ন বিষয়গুলো শিখতে শুরু করি।

‘অদম্য’তে তোমার অভিনয় ভীষণ প্রশংসিত। আগামী দিনে কী কী কাজের অফার আসছে?

আরিয়ুন: অনেকগুলো অফারই পেয়েছি। যতক্ষণ না সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলা মুশকিল। তবে এই মুহূর্তে হল ভিজিট, রিলিজ এসব নিয়েই ব্যস্ত।