পরিচালনায় ফিরছেন স্বপন সাহা

দীর্ঘ দিনের অপেক্ষা শেষ। ছবি পরিচালনায় ফিরছেন  কিংবদন্তি পরিচালক স্বপন সাহা। কোভিডের পর থেকেই কাজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন পরিচালক। সেইসঙ্গে শরীর অসুস্থ থাকার কারণে টলিপাড়া থেকেও দূরত্ব বেড়েছিল তাঁর। অবশেষে স্বমহিমায় ফিরতে চলেছেন তিনি।

 

পুরোপুরি বাণিজ্যিক ছবি দিয়েই পরিচালনার জগতে ফিরবেন তিনি। ছবির নাম ‘মন ছুঁই’। গত ২৯ জুন কলকাতার  ভোজ আড্ডায় ছবিটির প্রথম ঝলক সামনে এসেছে।  এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। টলিউডডের বুম্বাদা এসেছিলেন দীর্ঘদিনের পরিচালক বন্ধুকে উৎসাহ দিতে। এছাড়াও ছিলেন মুম্বই ফেরত অভিনেতা মুদাসির রশিদ এবং দর্শনা বণিক, রোহন ভট্টাচার্য, অনুসূয়া সামন্ত, রাজেশ শর্মা, লাবণী সরকার, অনামিকা সাহা, সসুজয় ঘোষ,  মনোজিৎ বড়াল, সৌরভ দাস। এছাড়াও ছিলেন প্রযোজর নন্দিতা নাগ, অসীম কুমার নাগ, কুশল নাগ, সঙ্গীত পরিচালক মনোজিৎ গোস্বামী।


 

সাংবাদিকদের সামনে স্বপন সাহা বলেন, ‘একটি নতুন রোমান্টিক মিউজিক্যাল বা সঙ্গীত-প্রধান প্রেমের ছবি নিয়ে ফিরতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত—এই ঘরানাটিই নব্বইয়ের দশকে আমার পরিচিতি গড়ে দিয়েছিল। এবার আমি বাংলা সিনেমায় এক নতুন জুটিকে দর্শকদের সামনে আনছি। নব্বইয়ের দশকে আপনারা আমাকে যেমন ভালোবেসেছিলেন, আশা করি আমার ‘মন ছুঁই’ ছবিটিকেও আপনারা তেমনই ভালোবাসবেন।’

 

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান যে তিনি ছবিটির জন্য কতটা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ‘মন ছুঁই’ আমাকে স্বপনদার সঙ্গে কাটানো নব্বইয়ের দশকের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি নিশ্চিত যে তাঁর এই দ্বিতীয় অধ্যায়েও তিনি বিপুল সাফল্য পাবেন। আমার মনে হয়, এখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা উচিত—আপনার রোমান্টিক ড্রামা ছবিতে অভিনয় করার জন্য কি আমার বয়স অনেক বেশি হয়ে গেছে?’ এই ছবিতে থাকবে আশা ভোঁসলে ও জুবিন গর্গের গান।

 

সুরকার মনোজিত গোস্বামী বলেন, ‘আশা জির সঙ্গে আমার প্রথম গানটি ছিল ২০১৩ সালে। এই ছবিতেই তিনি ও সোনু নিগম প্রথমবারের মতো দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। রেকর্ডিংয়ের সময় তাঁর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ার বিষয়টি আমার আজও মনে আছে। এছাড়া ছবিটিতে জুবিন গার্গের গাওয়া অন্যতম শেষ বাংলা গানটিও রয়েছে।’ বাংলা সিনে জগতে স্বপন সাহা নামটি উচ্চারণ করা হয় অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে। একাধিক হিট সিনেমা বাংলা সিনেমার দর্শকদের উপহার দিয়েছিলেন তিনি। তাই তিনি পুনরায় পরিচালনায় ফিরছেন জানতে পেরে খুশি হয়েছেন টলিপাড়ার সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীরা।