প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে গল্প চুরির অভিযোগ সুমনের, প্রতিক্রিয়া দিলেন ‘বুম্বাদা’

আজ ১৯ জুন, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘অভিমান’। যে সিনেমার প্রথম ঝলকে  ‘রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জী’-র ভূমিকায়  রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন টলিউড সুপারস্টার। টলিউডের বুম্বাকে এই নতুন অবতারে দেখে  দর্শকমহলে চড়েছে উন্মাদনার পারদ।

তবে এবারে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন টলিপাড়ার আরও এক জনপ্রিয় পরিচালক সুমন ঘোষ। ‘বুম্বা’দার বিরুদ্ধে  অভিমান ছবির ভাবনা ও চরিত্র চুরির অভিযোগ এনেছেন তিনি।

টলিউডকে সুমন ঘোষ ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘কাদম্বরী’, ‘বসু পরিবার’ এর মত একাধিক ভিন্ন স্বাদের ছবি উপহার দিয়েছেন। তৈরি করেছেন নিজস্ব দর্শক। সাম্প্রতিক সময়ে অপর্ণা সেনকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও করেছিলেন তিনি। আর এবারে তিনিও সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন প্রসেনজিৎকে। আর তা নিয়ে সরগরম টলিপাড়া।


নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সুমন ঘোষ লেখেন , ‘প্রিয় বুম্বাদা,

ভারী মন নিয়ে তোমায় এই চিঠি লিখছি। শিল্পের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন বুকে চেপে বসেছে, যা আমার মতো একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে  বিচলিত করছে।

​সৃজনশীলতা বা শিল্পের মূল ভিত্তি কী? শুধুই একটা চূড়ান্ত সৃষ্টি, নাকি সেই সৃষ্টি তৈরি হওয়ার পেছনের পারস্পরিক বিশ্বাস, সততা ও নৈতিকতা?

​গত আড়াই বছর ধরে তোমার সাথে আমি একটি চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনা করছি। অত্যন্ত যত্ন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি স্ক্রিপ্ট গড়ে তুলেছিলাম— ‘স্টার’। আর তার চরিত্রচিত্রণে Star হিসাবে শুরু থেকেই তোমাকে ভেবে এসেছি। এই আড়াই বছরে তোমার মতো একজন সিনিয়র, খ্যাতনামা অভিনেতার সাথে আমার বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে। তোমায় ভেবেই চরিত্রটির দুটি ভিন্ন বয়স ও রূপ সাজানো হয়েছিল—১) জরাগ্রস্ত, অবক্ষয়ী রূপ এবং ২) তরতাজা যৌবনের ইমেজ। এমনকি হোমওয়ার্ক হিসেবে আমি তোমায় নেটফ্লিক্সের ‘Elvis’ সিনেমাটি দেখতে বলেছিলাম। যদিও সেটি একজন মিউজিক সুপারস্টারকে নিয়ে, তবুও আমাদের ছবির ভাবনার সাথে তা প্রাসঙ্গিক ছিল। শেষবার, গত ডিসেম্বর মাসে আমাদের কথা চূড়ান্ত হয় যে ‘এনআইডিয়াস’ ছবিটি প্রযোজনা করবে এবং সেই অনুযায়ী আমার প্রোডাকশন কোঅর্ডিনেটর একটি বাজেটও তোমাকে পাঠায়।

​এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক যে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তোমার “অভিমান” ছবির টিজার এবং ট্রেলারে প্রায় হুবহু একই রকম চরিত্রায়ণ, একই রকম দৃশ্য এবং উপাদান (elements) ব্যবহার করা হয়েছে:

​১. তোমার দুটি লুক—একটি সুপারস্টার, অন্যটি জরাগ্রস্ত।

২. সেই সুপারস্টারের হঠাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়া।

৩. উধাও পরবর্তী এক ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে থাকা

৪. মস্তিষ্ক জনিত অসুখে হুইলচেয়ারে বসা দৃশ্যগুলো।

৫. নিজের (কম বয়সের) ছবি ভেঙে ফেলা।

৬. একজন বিশ্বস্ত ম্যানেজার (আমিও এই চরিত্রের জন্য কাঞ্চনকে ভেবেছিলাম তুমি জানতে)।

​সিনেমাটিতে আরও কতটা কী ওভারল্যাপ করবে জানি না। ধরে নিচ্ছি চিত্রনাট্য আলাদা কিন্তু চরিত্র টা তো একই। অতএব আমার ও আমার দলের Star নিয়ে দুবছরের খাটনি বৃথা গেলো। যদি ধরেও নিই এগুলো কেবলই ‘coincidence’ বা কাকতালীয়, তবুও তোমার তো ‘Star’-এর স্ক্রিপ্টটি প্রায় মুখস্থ ছিল। বিবেকের কাছে একবারও কি মনে হলো না যে আমাকে অন্তত জানানো উচিত ছিল?

​উপরন্তু, যখন আমি বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি, তখন অদ্ভুত এক নিশ্চলতায় আমার মেসেজগুলোকে এড়িয়ে যাচ্ছ তুমি। এখন বুঝতে পারছি, কেন।

এই ইন্ডাস্ট্রির বহু নামী এবং কিংবদন্তি শিল্পীর সাথে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে—যেমন সৌমিত্রকাকু, মিঠুনদা, শর্মিলা ঠাকুর বা অপর্ণা সেন। এঁদের কাছ থেকে প্রফেশনাল এথিক্স শেখা উচিৎ।’

যদিও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রসেনজিৎও। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘আমার পরিচালক সুমনের প্রতি অত্যন্ত সম্মান রয়েছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সৃজনশীলতা অনেক সময়ে বাস্তবিকতার সীমা পেরিয়ে যায়। কারণ আমরা এই সৃজনশীলতার অনুপ্রেরণা পাই বাস্তব জীবন থেকেই। যদিও অভিমান সম্পূর্ণভাবে একটি মৌলিক, স্বাধীন এবং আইনি ভাবে রেজিস্টার করা একটি প্রজেক্ট যা পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত তৈরি করেছেন। আর চিত্রনাট্য লিখেছেন সৃজাত। একজন অভিনেতা হিসেবে আমার কাজ চিত্রনাট্যের মধ্যে জীবন দান করা। এখানে কারো কোন সৃজনশীলতা ক্ষতি করা হয়নি, কারো বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়নি। আমি আশা করব আগামীতেও সুমন আগামীতেও ভালো কাজ করবে।’