ফের অসুস্থ সুজিত গুহ

টলিউডের বর্ষীয়ান পরিচালক সুজিত গুহের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। সম্প্রতি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ফের শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাঁকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ভাগ্নে ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে থাকছেন এই প্রবীণ পরিচালক। পরিবার সূত্রে খবর, আগের তুলনায় তাঁর শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টাও শুরু করেছিলেন। এমনকি অল্পস্বল্প কথা বলা এবং হাঁটাচলাও শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিচালকের পরিবারের এক সদস্য জানান, “সুজিতবাবুর শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু দু’দিন আগে হঠাৎ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এরপর চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা আবার হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।”


পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত উদ্বেগজনক কিছু নেই। নিয়মিত চিকিৎসা চলছে এবং কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখার জন্যই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন।

পরিচালকের অসুস্থতার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আনেন সঙ্গীত পরিচালক সূর্যজ্যোতি রাজা। তিনি জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকদের মতে সুজিত গুহ ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ায় তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে এই অসুস্থতার ফলে তাঁর কিছু স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

সূর্যজ্যোতি আরও জানান, বয়সজনিত কারণে সুজিত গুহর আগে থেকেই অল্পমাত্রার অ্যালঝাইমার্স ছিল। সাম্প্রতিক শারীরিক সমস্যার ফলে সেই সমস্যাও কিছুটা বেড়ে গিয়েছে। তবুও চিকিৎসকদের আশা, ধীরে ধীরে তাঁর অবস্থার আরও উন্নতি হবে।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সফল পরিচালক সুজিত গুহ। ‘অমর সঙ্গী’, ‘অমর প্রেম’, ‘দাদামণি’, ‘মনে মানে না’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে সফল ছবির নির্মাতা তিনি। তাঁর পরিচালিত ‘অমর সঙ্গী’ ছবির গান ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ আজও বাঙালির আবেগের অংশ হয়ে রয়েছে।

ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, দীর্ঘদিন কাজের সুযোগ না পাওয়ার কষ্ট তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। সম্প্রতি তিনি আবার নতুন ছবি পরিচালনার পরিকল্পনা করছিলেন বলেও শোনা যাচ্ছিল। সেই সময়েই তাঁর এই অসুস্থতা বাংলা চলচ্চিত্র জগতকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অনুরাগীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।