সকালেই বড় একটা দুঃসংবাদ এলো। ‘গডজিলা ভার্সেস কং’-এর অভিনেত্রী কেলি হটল, মাত্র ১৮ বছর বয়সে একটা মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন। খবরটা প্রথম জানান তাঁর বাবা, জোশুয়া হটল, ফেসবুক লাইভে আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে। তিনি বলেন, মেরিল্যান্ডে গাড়ি দুর্ঘটনায় মেয়েটি চলে গেল। তখন তিনি নিজে টেক্সাস থেকে মরদেহ বুঝে নিতে বিমান ধরছিলেন। কেলি যেখানে পড়তেন ‘টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফ’ সেখান থেকেও বিবৃতি এসেছে। ওরা জানিয়েছে, কেলি তাঁদের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
বিভিন্ন সংবাদে বলা হচ্ছে, কেলি আর তাঁর বাবার দু’জনেরই শ্রবণ সমস্যা ছিল। তাঁদের পরিবারে কয়েক প্রজন্ম ধরেই সবাই কানে শুনতে পান না। এঁরা এমন একটি কমিউনিটির অংশ, যেখানে সবাই সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে যোগাযোগ করেন।
‘টেক্সাস স্কুল ফর দ্য ডেফ’-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “অসীম দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের স্কুলের সিনিয়র ছাত্রী কেলি হটল গতকাল মেরিল্যান্ডের ফ্রেডরিক শহরে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে।” সাথে আরো বলেছে, “এই কঠিন মুহূর্তে কেলির পরিবার, বন্ধু, ক্লাসমেট আর যারা ওকে চেনেন, ভালোবাসেন সবার প্রতি আমাদের সমবেদনা থাকল। আমাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। সবার কাছে অনুরোধ, কেলির পরিবারের গোপনীয়তা যেন বজায় রাখা হয় এবং যেন কোনো ধরনের গুজব বা অনুমান না ছড়ায়।”
কেলি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‘গডজিলা ভার্সেস কং’ (২০২১) আর ‘গডজিলা এক্স কং: দ্য নিউ এম্পায়ার’ (২০২৪)-এ ‘জিয়া’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এই সিনেমায় জিয়াও কানে ঠিক মতো শুনতে পেত না, আর সে ছিল অনাথ। জিয়ার সঙ্গে ‘কং’ চরিত্রের এক গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে—যেটা সিনেমার একটা বড় অংশ। ড. আইলিন অ্যান্ড্রুসের তত্ত্বাবধানে জিয়া বেড়ে ওঠে।
আটলান্টার জর্জিয়ায় কেলির জন্ম, আর তাঁর পরিবারেই সবাই শ্রবণ সমস্যায় বড় হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই, কেলি ছোট বয়সেই বিশেষভাবে সক্ষম কমিউনিটির পক্ষে নানা প্রচারাভিযানে যুক্ত হন। কনভো’র মতো ভিডিও ইন্টারপ্রেটিং সার্ভিসের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন।
কেলি আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে দারুণ দক্ষ ছিলেন। দুই গডজিলা সিনেমাতেই ও কংয়ের সঙ্গে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজেই কথা বলতেন। তাঁর ক্যারিয়ার শুরু, মাত্র ৯ বছরে, একটা বিজ্ঞাপনে অভিনয় দিয়ে। ২০২১ সালের ‘গডজিলা ভার্সেস কং’-এ জিয়া চরিত্রের জন্য একজন শ্রবণ সমস্যাসম্পন্ন অভিনেত্রী খোঁজা হচ্ছিল। কাস্টিং ডিরেক্টর সারা হ্যালি ফিন, থিয়েটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যখন কেলির খোঁজ পান, তখন ইতিমধ্যেই কং: স্কাল আইল্যান্ড-এর এক সহকারী পরিচালক কনভো’র বিজ্ঞাপনে ওকে দেখে আগ্রহী হয়েছিলেন। সেখান থেকেই পর্দায় কেলির পথচলা।