বিপাকে অভিনেতা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েও শুটিং না করার অভিযোগে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করেছে। এই ঘটনায় দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন এক চলচ্চিত্র প্রযোজক।
অভিযোগকারী প্রযোজক তরুণ দাস বালুরঘাট শহরের মঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালে একটি ছবি তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল সোহমের। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে অভিনেতা ধাপে ধাপে মোট ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম পারিশ্রমিক হিসেবে নেন বলে অভিযোগ।
প্রযোজকের দাবি, টাকা নেওয়ার পর শুটিং শুরু করার আশ্বাস দিলেও বারবার তারিখ বদলাতে থাকেন সোহম। তাঁর জন্যই একাধিকবার শুটিং পিছিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে কাজ ঝুলে থাকার পর শেষ পর্যন্ত ছবির কাজ আর সম্পূর্ণ হয়নি। এরপর টাকা ফেরত চাইলে অভিনেতা তা দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। এমনকী, প্রযোজককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
যদিও এই অভিযোগের পাল্টা দাবি করেছিলেন সোহম। প্রযোজকের বিরুদ্ধেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন অভিনেতা। ঘটনার পর বালুরঘাট থানায় মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন সোহম। কিন্তু আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
এদিকে, সোহমের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। সেগুলির সঙ্গে বালুরঘাটের এই মামলার সরাসরি যোগ নেই। চলতি বছরের জুন মাসে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে অভিনয় না করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে চারু মার্কেট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। ওই মামলায় প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং জামিন অযোগ্য ধারাও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এ ছাড়াও, চলতি বছরের অগস্টে বেহালা থানায় সোহমের বিরুদ্ধে মারধর, হুমকি এবং জোর করে আটকে রাখার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। পাশাপাশি, একটি ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জার কাজ করিয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। একের পর এক অভিযোগ ও মামলার জেরে নতুন করে চাপে পড়লেন অভিনেতা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক।