• facebook
  • twitter
Wednesday, 21 January, 2026

ধর্ম এখন রাজনৈতিক ব্যাপার, স্পিরিচ্যুয়াল নয়: ঈশান খট্টর

সম্প্রতি কলকাতায় এসেছিলেন ঈশান খট্টর। একটি নামী ব্র্যান্ডের ফ্যাশন শোয়ে ‘শো স্টপার’ হয়ে। তাঁর সঙ্গে কথা বললেন দেবযানী লাহা ঘোষ।

কলকাতা শহরে কেমন অনুভূতি?
ঈশান: কলকাতা আমার ভালবাসার শহর। ছোটবেলা মা কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন। এখনও ‘ধড়ক’ শুটিংয়ের স্মৃতি টাটকা। আর এই শহর মানে খাবারের শহর। ‘দ্য রয়্যালস্’ সিরিজের অন্যতম পরিচালক প্রিয়াঙ্কা ঘোষ আপনাদের কলকাতার মেয়ে। ওঁর বাড়িতে বিভিন্ন পদ খেয়েছি। দারুণ খাবার। একটু শ্লথ, ভাতঘুমের শহর। তবে এখানকার মানুষের শিল্পবোধ তুখোড়। আবার শুটিং করতে চাই এ শহরে। গঙ্গাবক্ষে ফ্যাশন শো-তে র‍্যাম্পে হাঁটলাম আর ব্যাকগ্রাউন্ডে রাতের হাওড়া ব্রীজ… অনবদ্য, ইলেকট্রিকাল!

‘হোমবাউন্ড’ অস্কারের শর্টলিস্টে! কেমন অনুভূতি?
ঈশান: আশাতীত! গর্বিত! অস্কারের ৯৮ বছরের ইতিহাসে কেবলমাত্র ৫টা ছবি এই পর্যায়ে পৌঁছতে পারল। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করব সবাই যতটুকু সম্ভব। দেখতে হবে যাতে বেশি মানুষ ‘হোমবাউন্ড’ দেখেন। এখনও পর্যন্ত যাঁরা দেখেছেন, ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। যেটা ভীষণ সাহস দিচ্ছে।

Advertisement

সত্যজিৎ রায়ের শহরে নিজের ছবির অস্কার ক্যাম্পেইন করছেন, কেমন লাগছে?
ঈশান: দারুণ! সত্যজিৎ রায় তো লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পেয়েছিলেন। তিনি হচ্ছেন আমাদের মাথায় রত্নমুকুটের মতো। আকিরা কুরোসওয়া তো একবার বলেইছিলেন যে, যাঁরা সত্যজিৎ রায়ের ছবি দেখেননি তাঁরা হয়ত সূর্য বা চন্দ্রের মধ্যে কিছু একটা মিস করেছেন। তাহলেই ভেবে দেখুন! উনি শিক্ষকদেরও গুরু।

Advertisement

অভিনেতা ঈশানের কাছে কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল ‘হোমবাউন্ড’?
ঈশান: চ্যালেঞ্জিং নয়, বরং অনবদ্য অভিজ্ঞতা, যা আমি ভীষণভাবে চেয়েছিলাম। নীরজ দারুণ পরিচালক, আর দারুণ মানুষ। নিজের অনুভব থেকে ছবি বানায়। আমি নিজেও এমন কাজে বিশ্বাস করি। তাই কাজটা করতে চেয়েছি। ফলাফল যাই হোক, এই ছবিটা আশা করি মানুষের মনে থেকে যাবে।

এই ছবিতে জাতপাত, ধর্ম অন্যতম উচ্চারিত বিষয়। ঈশানের কাছে ধর্মের গুরুত্ব কতটুকু?
ঈশান: সময়ের সঙ্গে আমি বুঝতে শিখেছি ধর্ম একটা রাজনৈতিক ব্যাপার, স্পিরিচ্যুয়াল নয়। কিন্তু আমি আবার স্পিরিচ্যুয়ালিটিতে বিশ্বাস করি। ধর্ম মনুষ্যত্বের ধ্বজাবাহী হলে ভালো। আর আমাদের ভাবা উচিত যে আমরা এক জাতি, বিভেদে কী রাখা আছে?

কেরিয়ার শুরুতে বিশ্ব সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক মজিদ মজিদির সঙ্গে কাজ। এখন আপনার ছবিও সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মঞ্চে। ওঁর সঙ্গে কাজ করা কেরিয়ারের গতিপথ নির্ণয়ে কতটা সাহায্য করেছে?

ঈশান: আমি মনে করি, অনেকটা। কেরিয়ারের থেকেও বেশি করে অভিনেতা ঈশানের ভিত ওঁর হাতে তৈরি। আমার আজকের আত্মবিশ্বাস ওঁর থেকে পাওয়া। আমি চরিত্রে ডুবে যাওয়ায় বিশ্বাসী। সেটা ওঁর জন্য হয়েছে। ওঁর কাছে প্রচুর শিখেছি। ওঁর সিনেমাকে দেখা এবং শুট করার ধরন একদম আলাদা। উনি চ্যালেঞ্জ করতেন। সেটা দারুণ অভিজ্ঞতা। আমার মজিদ স্যারের কাছে সারাজীবনের কৃতজ্ঞতা।

কিংবদন্তি মার্টিন স্করসেসির নাম ‘হোমবাউন্ড’ ছবির কার্যনির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ওঁর সঙ্গে কোনো স্মরণীয় অভিজ্ঞতা?

ঈশান: ওঁকে সিনেমার ঈশ্বর বললে কম বলা হয়। একজন ৩০ বছর বয়সী অভিনেতা যদি ওঁর কাছে নিজের কাজের প্রশংসা শোনেন, ‘কিড, ইউ আর গ্রেট’, তখন মনে হয়, আর জীবনে কি পুরস্কার লাগে! আমার স্বপ্ন যে ধৃষ্টতা দেখাতে পারেনি, তা বাস্তবে ঘটেছে। খুব স্পেশাল। অনবদ্য মানুষ। কী দরকার ছিল ওঁর এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার? আসলে উনি সৎ সিনেমায় বিশ্বাসী। আর উনি শুধু নাম দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি, সময় দিয়েছেন। লেখায়, সম্পাদনায় সাহায্য করেছেন। তিনি আমার সম্পর্কে কী বললেন সেটা জানতে আমি খুব উদগ্রীব ছিলাম। বারবার নীরজকে জিজ্ঞাসা করে বিরক্ত করতাম। কত কী যে শিখিয়েছেন!

আপনার ছবির তালিকা সমান্তরাল ছবিতে ভরা। বলিউড নিয়ে কী ভাবনা?
ঈশান: তেমন কিছু নয়। আমি শিকড়ের কাছে থাকতে চাই। আমার ছবিগুলোও তাই। করণ জোহর বলেন, পশ্চিমি দেশগুলো মনে করে বলিউড আসলে মিউজিক্যাল। কিন্তু ওরা বোঝে না, আমরা গানে গানে গল্প বলি না বরং গানকে গল্পের অংশ করে নিই। কাজ যেমনই হোক, ভাল কাজ হলেই হবে।

Advertisement