রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যুর কারণ জানতে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের

টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্তে এবার সরাসরি পদক্ষেপের নির্দেশ দিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। সর্বভারতীয় চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠন অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্তর অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে রাহুলের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে পিএমও। ২৯ মার্চ ওড়িশায় আউটডোর শুটিং চলাকালীন মৃত্যু হয়েছিল টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই মনে করছেন, পিএমও-র এই পদক্ষেপ নজিরবিহীন।

রাহুলের মৃত্যুর নিয়ে প্রথম থেকেই একাধিক অভিযোগ উঠেছে টলিপাড়ায়। প্রশ্ন উঠেছে রাহুলের ভক্তদের মনে। প্রশ্ন উঠেছে, রাহুলের মৃত্যু নিছকই এক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কাজ করেছে শুটিং সেটের চূড়ান্ত অব্যবস্থা? ২ মাস কেটে গেলেও রাহুলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছুই জানাতে পারেনি পুলিশ। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায়। এরই মধ্যে বিষয়টির গুরুত্ব বিচার করে সরাসরি হস্তক্ষেপ করল প্রধানমন্ত্রীর অফিস।

ওড়িশার বালেশ্বরে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। ২৯ মার্চ শুটিং চলাকালীন রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তারপরই অভিযোগ ওঠে, সুমুদ্র ও সংলগ্ন এলাকায় শুটিং হলেও অভিনেতা ও কলাকুশলীদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষাবিধিও মানা হয়নি।  কোনও রকম পূর্বপ্রস্তুতি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শিল্পী ও কলাকুশলীরা ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছিলেন।


কার্যত তাঁদের এভাবেই কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেছিল অভিযোগ। তার ফলেই রাহুলের মৃত্যু বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। রাহুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়িতেই টলিপাড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, তৎকালীন তৃণমূল সরকার অভিযুক্তদের চিহ্নিত বা গ্রেপ্তারের পরিবর্তে তাঁদের আড়াল করার চেষ্টা করে। এর পরেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলে সর্বভারতীয় চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠন অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রাহুলের মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে সক্রিয় হন সংগঠনের জাতীয় সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত। বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এই ঘটনায় কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে শুটিং চালানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। কিন্তু শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযুক্তিকর্মী বা জুনিয়র শিল্পীদের জীবন কোনওভাবেই অবহেলার কারণে ঝুঁকির মুখে ফেলা যায় না।

জানা গিয়েছে, সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওই আবেদনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে পিএমও। দিল্লির তরফে সবুজ সঙ্কেত মিলতেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে এই সংক্রান্ত জরুরি ফাইল পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশের পর ওড়িশা প্রশাসনও সক্রিয় হয়েছে।

 জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বালেশ্বর জেলার পুলিশ সুপারের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়ে গোটা ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। ২৯ মার্চের ঘটনায় প্রযোজক ও পরিচালকের কোনও রকম গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল অর্থাৎ সিট গঠন করা হয়েছে। এখন দেখার ওড়িশা পুলিশের এই বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে।

সূত্রের খবর, সর্বভারতীয় চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠন সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওই চিঠিতে টলিউডের প্রথম সারির বেশ কিছু নামের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে জনপ্রিয় প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’-এর দিকে। সংগঠনের অভিযোগ, প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুটিং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গাফিলতির কারণেই রাহুলের অকালমৃত্যু।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবহেলা-জনিত কারণে মৃত্যুর ধারার বদলে সরাসরি খুনের ধারায় মামলা দায়ের করার আবেদনও জানানো হয়েছে। শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থাটিকে পাকাপাকিভাবে ‘কালো-তালিকা’ ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, রাহুলের মৃত্যুর পর আউটডোর শ্যুটিংয়ের ক্ষেত্রে টেকনিশিয়ান ও শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে।