শেষ হল ফেডারেশনের দাদাগিরি, থাকবে না গিল্ড

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে টলিউডের সাংগঠনিক কাঠামোতেও। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ তথা অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের প্রভাব কার্যত অতীতের অধ্যায়ে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছে শিল্পমহলের একাংশ।

বুধবার টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী একাধিক বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কেন্দ্রের সহায়তায় টলিউডের সমস্ত কলাকুশলীকে দিল্লিভিত্তিক ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এর ফলে বাংলা বিনোদন জগতে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, এতদিন টলিউডের অন্যতম শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ফেডারেশনের ভূমিকা আর আগের মতো থাকবে না। পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা ২৬টি গিল্ডের পরিবর্তে সীমিত সংখ্যক কমিটি গঠনের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে পরিচালক, ক্যামেরা, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং শিল্প নির্দেশনা—এই চারটি বিভাগকে কেন্দ্র করে নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। শিল্প নির্দেশনা বিভাগটি রাখার পরামর্শ পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


এদিন সকালে বিভিন্ন গিল্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন পাপিয়া অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক অশোক ধনুকা, পরিচালক অতনু বসু, অভিনেত্রী কাঞ্চনা মিত্র, মুমতাজ সরকার, মৌবনী সরকার-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। বৈঠকে তিনি আশ্বাস দেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজের সুযোগ দেওয়া হবে এবং মতবিরোধের কারণে কাউকে কালো তালিকাভুক্ত করা যাবে না। কোনও অবস্থাতেই শুটিং বন্ধ করা যাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

কলাকুশলীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানান বিজেপি বিধায়ক। তাঁর দাবি, শিল্পী ও প্রযুক্তিবিদদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য পরিষেবার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে তথাকথিত ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি রোধে কঠোর নজরদারির আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়াও বলিউডের ধাঁচে টলিউডেও আট ঘণ্টার কর্মদিবস চালুর সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। ওয়েব প্ল্যাটফর্ম ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলির আর্থিক উৎস, কনটেন্ট নির্বাচন এবং প্রযোজনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাপিয়া অধিকারী। ফলে বাংলা বিনোদন জগতের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।