২৬টি গিল্ড বাতিল বিতর্কে মুখ খুললেন পাপিয়া অধিকারী

বাংলা চলচ্চিত্র জগতকে নতুনভাবে সংগঠিত করার লক্ষ্যে বড়সড় বার্তা দিলেন অভিনেত্রী ও সংগঠক পাপিয়া অধিকারী। টলিউডের দীর্ঘদিনের গিল্ডভিত্তিক বিভাজন দূর করে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে এক ছাতার তলায় আনার উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পাপিয়া অধিকারী জানিয়েছেন, বর্তমানে টলিউডে কার্যকর থাকা ২৬টি পৃথক গিল্ডকে বাতিল করে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হবে। এতদিন যে সংগঠন ফেডারেশন হিসেবে পরিচিত ছিল, সেটিকে নতুনভাবে ‘কনফেডারেশন’-এ রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিল্পের বিভিন্ন শাখার শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় তৈরি হবে বলে মনে করছেন তিনি।

তাঁর কথায়, ‘বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আলাদা আলাদা গোষ্ঠীতে বিভক্ত থেকে ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আমরা সকলকে একই মঞ্চে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’


পাপিয়া আরও জানান, ইতিমধ্যেই বাইরের রাজ্য এবং বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলায় কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর অধীনে কাজের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে অডিশন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নতুন প্রতিভাদের সামনে নিয়ে আসা এবং শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বাংলা সিনেমার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার কথাও উল্লেখ করেছেন পাপিয়া অধিকারী। তাঁর মতে, এক সময় বাংলা চলচ্চিত্র দেশের অন্যতম শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম ছিল। সেই স্বর্ণযুগকে ফিরিয়ে আনতেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সংগঠন।

এদিকে ডি কিউব (D-Cube) সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও সরব হন তিনি। পাপিয়ার স্পষ্ট বার্তা, যাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং যাঁরা শিল্পের পরিবেশ নষ্ট করছেন, তাঁদের জন্য নতুন ব্যবস্থায় কোনও জায়গা নেই। তিনি বলেন, “যাঁদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা চাইলে অন্যত্র চলে যেতে পারেন। এখানে থেকে আর সেই ধরনের কাজ করা যাবে না।”

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকেই নতুন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে পাপিয়া জানান, ভবিষ্যতে সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বাংলা চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘ব্যান কালচার’-কে আর কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। নতুন কনফেডারেশনের লক্ষ্য হবে ঐক্য, স্বচ্ছতা এবং শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন।