বিশ্বকাপ ফুটবলের শতবর্ষের আসরকে ঘিরে বড় ঘোষণা করল জনপ্রিয় সম্প্রচারমাধ্যম নেটফ্লিক্স। ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছে তারা। তবে এই স্বত্ব শুধুমাত্র স্পেনের জন্য। শুধু সরাসরি ম্যাচ সম্প্রচার নয়, টুর্নামেন্টকে ঘিরে থাকছে একাধিক বিশেষ অনুষ্ঠানও। জানা গিয়েছে, প্রতিদিন অন্তত একটি ম্যাচ বিনামূল্যে দেখার সুযোগ পেতে পারেন দর্শকেরা। স্পেনের ম্যাচগুলিও বিনামূল্যে দেখানো হবে।
২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ওই বছর বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্ণ হবে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে শুরু হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। শতবর্ষের সেই বিশেষ আসর আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল। পাশাপাশি, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও হবে তিনটি বিশেষ ম্যাচ। ফলে ছ’টি দেশ জুড়ে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের শতবর্ষের আয়োজন।
নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, ম্যাচ সম্প্রচারের পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে বিশেষ অনুষ্ঠান দেখানো হবে। থাকবে বিরতির সময়ের অনুষ্ঠানও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিনও একাধিক বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, দর্শকদের কাছে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইছে এই সম্প্রচারমাধ্যম।
ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য আরও বেশি দর্শকের কাছে বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয়তা পৌঁছে দেওয়া।
শুধু পুরুষদের বিশ্বকাপ নয়, মহিলাদের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়েও বড় পরিকল্পনা রয়েছে নেটফ্লিক্সের। ২০২৭ ও ২০৩১ সালের মহিলাদের বিশ্বকাপও এই সম্প্রচারমাধ্যমে দেখানো হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ফুটবলকে কেন্দ্র করে তথ্যচিত্র নির্মাণেও আগ্রহী তারা। ২০২৩ সালের মহিলাদের বিশ্বকাপে আমেরিকার অভিযান নিয়ে তৈরি ‘আন্ডার প্রেসার: দ্য ইউএস উইমেনস ওয়ার্ল্ড কাপ টিম’ তারই উদাহরণ। ফুটবলারদের কেরিয়ার নিয়েও একাধিক তথ্যচিত্র তৈরি করেছে নেটফ্লিক্স।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের শতবর্ষের আসরকে ঘিরে সম্প্রচারের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে নেটফ্লিক্স। তবে স্পেনের বাইরের দর্শকেরা এই সুবিধা পাবেন কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্প্রচারস্বত্বের উপর।