নাট্যজগৎ ও চলচ্চিত্র দুনিয়ায় নক্ষত্রপতন। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। ‘স্টার ট্রেক’ এবং ‘এক্স-মেন’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার অভিনেতার নিজস্ব সমাজমাধ্যমের পাতায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে।
জানা গিয়েছে, বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্যাট্রিক। মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী সানি। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যালঝাইমার্স রোগ এবং লিউই বডি ডিমেনশিয়ার সঙ্গে লড়াই করছিলেন অভিনেতা। সেই লড়াইয়ের অবসান হল। পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, গতকাল (বুধবার) লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে প্রয়াত হয়েছেন স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। তাঁর প্রিয় স্ত্রী সানি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে ছিলেন।” জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গেই কাটিয়েছেন তিনি। ছিল লাইভ সঙ্গীত, প্রার্থনা, চোখের জল আর হাসি— প্রিয়জনদের ভালোবাসায় ঘেরা ছিল তাঁর শেষ মুহূর্তগুলি।
ইংল্যান্ডে জন্ম প্যাট্রিকের। নাটক, থিয়েটার, টেলিভিশন থেকে ব্রডওয়ে— অভিনয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের মন জয় করেছেন এই অভিনেতা। হলিউডে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের আগে ইংল্যান্ডের রয়্যাল শেক্সপিয়র কোম্পানির মঞ্চে নিজের অভিনয়দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সালে ওই নাট্যসংস্থায় যোগ দেন প্যাট্রিক। সেখানে প্রায় ১৪ বছর কাজ করে শেক্সপিয়রের বিভিন্ন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
পরে বড় পর্দা ও টেলিভিশনে তাঁর অভিনয় তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজে ক্যাপ্টেন জিন-লুক পিকার্ড এবং ‘এক্স-মেন’ ছবিতে অধ্যাপক চার্লস জেভিয়ারের চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। গভীর, স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিত্বপূর্ণ উপস্থিতি তাঁকে কল্পবিজ্ঞান ও সুপারহিরো ঘরানার অন্যতম স্মরণীয় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
তবে অভিনয়ের জগতের বাইরেও ছিল প্যাট্রিকের বিস্তৃত পরিচয়। মানবাধিকার রক্ষা, গার্হস্থ্য হিংসার শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো, শরণার্থীদের সহায়তা, প্রবীণ সেনাকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং পশুকল্যাণের মতো নানা সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। পর্দার বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ভূমিকা তাঁকে অনুরাগীদের কাছে আরও শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছিল।
নাট্যজগতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করলেও নিজের ইয়র্কশায়ারের শিকড়ের সঙ্গে বরাবরই নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন প্যাট্রিক। তাঁর প্রয়াণে শুধু চলচ্চিত্র জগৎ নয়, বিশ্বজুড়ে নাট্যপ্রেমী ও অনুরাগীদের কাছেও একটি যুগের অবসান ঘটল।