লাদাখের প্রশাসনিক প্রধানের দপ্তরের ঘোষণায় করমুক্ত হল সাম্প্রতিক গুপ্তচরধর্মী অ্যাকশন ছবি ‘ধুরন্ধর’। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় জানানো হয়েছে, লাদাখের প্রশাসনিক প্রধান শ্রী কবিন্দর গুপ্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ছবিটিকে করছাড়ের আওতায় এনেছেন। লাদাখের বিস্তীর্ণ ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিসরে ছবিটির দীর্ঘ শুটিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে প্রশাসনের ব্যাখ্যা।
প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু দর্শকদের স্বস্তি দেওয়া নয়; একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উৎসাহিত করা এবং লাদাখকে পর্যটন ও শুটিংয়ের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা। ওই বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, ‘প্রশাসন নতুন চলচ্চিত্র নীতি প্রণয়নের কাজও করছে। এই নীতির মাধ্যমে লাদাখে ছবি নির্মাণে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।’
প্রসঙ্গত, চলচ্চিত্র পরিচালক আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’ ইতিমধ্যেই বক্স অফিসে সাড়া ফেলেছে। ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত সময়কালে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ছাড়িয়েছে ১,১০০ কোটি টাকা। জিও স্টুডিওস ও বি-৬২ স্টুডিওসের ব্যানারে জ্যোতি দেশপান্ডে, আদিত্য ধর ও লোকেশ ধরের প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিতে অভিনয় করেছেন রণবীর সিংহ, অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন, অর্জুন রামপাল ও সারা অর্জুন।
দুই পর্বের কাহিনী ভিত্তিক এই সিরিজের প্রথম অধ্যায় ‘ধুরন্ধর’-এ এক গোপনচর এজেন্টের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। করাচির অপরাধ জগত ও রাজনৈতিক অন্ধকার জগতে অনুপ্রবেশের এই কাহিনীতে বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে কল্পনার মেলবন্ধন ঘটেছে। ১৯৯৯ সালের আইসি–৮১৪ বিমান ছিনতাই, ২০০১ সালের সংসদ ভবনে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা এবং লিয়ারি অভিযানের অনুষঙ্গ দর্শকদের কাছে ছবির উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
চলচ্চিত্রটিকে করমুক্ত করার সিদ্ধান্ত লাদাখের বৃহত্তর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসনের মতে, ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, লাদাখ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বড় পর্দার গল্প বলার ক্ষেত্রেও আদর্শ মঞ্চ হতে পারে। ফলে করছাড়ের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও নির্মাতাকে লাদাখমুখী করতে পারে। বক্স অফিসে আপাতত রেকর্ড ভাঙা যাত্রা অব্যাহত ‘ধুরন্ধর’-এর। আর সেই সাফল্যের উৎসবে সামিল লাদাখও।