চলতি বছরে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব ১৬-২৩ ডিসেম্বর, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

PIC- SOCIAL MEDIA

মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে ঘিরে বড়সড় উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্য। সেপ্টেম্বরের কয়েকটি বিশেষ দিনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না আয়োজন। মহানায়কের শতবর্ষ উপলক্ষে আগামী এক বছর ধরে কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি এবং তাঁর স্মৃতিকে কেন্দ্র করে একাধিক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এবারে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সময়সূচিও সামনে এসেছে। জাতীয় ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার উৎসব অনুষ্ঠিত হবে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দেশের অন্যান্য চলচ্চিত্র উৎসবের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই পরিবর্তন বলে জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার নন্দনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, অরিন্দম শীল, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, জিৎ সহ আরও অনেকে। সেই বৈঠকে কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পাশাপাশি উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান পরিচালনা ও পরিকল্পনার জন্য ইতিমধ্যেই ২০ সদস্যের অ্যাডভাইজরি বোর্ড তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন সেই বোর্ডের চিফ প্যাট্রন হিসেবে।বৈঠক শেষে মহানায়ককে স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তম কুমার ছিলেন সত্যিকারের নায়কের নায়ক, আর সেই কারণেই তিনি ‘মহানায়ক’ নামে পরিচিত। নিজের মন্ত্রীত্বের সময়ে তাঁর শতবর্ষ উদযাপনের সুযোগ পাওয়াকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।একই বৈঠক থেকে উত্তম কুমারের শতবর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে পরে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান I&CA-র চেয়ারপারসন গৌতম মোহন, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তাঁদের বক্তব্য, মহানায়ককে স্মরণ করার এই উদ্যোগ কোনও নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান বা কয়েকটি দিনের মধ্যে আটকে থাকবে না। দীর্ঘ এক বছর ধরে চলবে নানা ধরনের কর্মসূচি।


পরিকল্পনার তালিকায় রয়েছে কলকাতার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবহ স্থানকে যুক্ত করে বিশেষ ‘নস্টালজিক হেরিটেজ ওয়াক’। মহানায়কের জন্মদিন উপলক্ষে মধ্যরাতেও থাকছে বিশেষ আয়োজন, যার মধ্যে রয়েছে মিডনাইট কেক কাটিং অনুষ্ঠান। তাঁর জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য ছবিগুলিকে ঘিরে খোলা আকাশের নিচে বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

উত্তম কুমারের জীবন, তাঁর অভিনয়জীবন এবং বাংলা সিনেমায় তাঁর অবদানকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিদের নিয়ে হবে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং আলোচনাচক্র। ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মূল কর্মসূচির পাশাপাশি বছরজুড়েই ধাপে ধাপে এই অনুষ্ঠানগুলি আয়োজন করা হবে।

শুধু স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, মহানায়কের সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। উত্তম মঞ্চকে আধুনিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে HIDCO-র কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে গঠন করা হয়েছে ‘উত্তম কুমার কমিটি’। আগামী দিনে মহানায়ককে ঘিরে কী কী অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্রভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করবে এই কমিটি।ফলে উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ এবার শুধু একটি স্মরণীয় জন্মদিন উদযাপনের মধ্যে আটকে থাকছে না। তাঁর অভিনয়, সৃষ্টিশীলতা এবং বাংলা চলচ্চিত্রে দীর্ঘ প্রভাবকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে এক বছরব্যাপী সাংস্কৃতিক পরিসর। লক্ষ্য একটাই, মহানায়কের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে তোলার পাশাপাশি তাঁর শিল্পসত্তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়া।