অতনু রায়
ঋষভ শেট্টি অভিনীত ও পরিচালিত ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’ এই মুহূর্তে অন্যতম আলোচিত ছবি। ছবির ন্যারেটিভ আসলে ভারতীয় সংস্কৃতির গভীর অনুসন্ধান থেকে উঠে আসা। সর্বোপরি, আদ্যন্ত একটি ‘ক্লিশে’মুক্ত গল্প বলে ঋষভ নিজের মুনসিয়ানার ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ভাল-মন্দ, সাদা-কালো-র চিরকালীন সংঘাতকে এক ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন তিনি। ‘কান্তারা’ ছবিতে ট্রাইবাল মানে উপজাতি জীবন ও যাপনের ইঙ্গিত ছিল অবশ্যই তবে এই প্রিক্যুয়েলে আরও গভীরে গিয়ে তাঁদের রীতিনীতি, দেব-দেবী, ঐতিহ্যে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এই ছবির সমস্ত চরিত্রই ভাল ভাবে লেখা এবং চরিত্রদের প্রয়োজনীয় ‘স্পেস’ দেওয়া হয়েছে। ‘বর্মে’ চরিত্রে ঋষভ শেট্টি অসাধারণ, আর ‘কনাকাবতী’র ভূমিকায় রুক্মিণী বসন্থ দুরন্ত অভিনয়ে দর্শকের নজর কেড়েছেন। পর্দায় ওঁদের রসায়ন দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে, বিশেষত ক্লাইম্যাক্সে। এই ছবির ক্লাইম্যাক্স ছবির অন্যতম সম্পদ। ‘কুলশেখর’ চরিত্রে গুলশন দেবাইয়াহ ও ‘রাজা বিজয়েন্দ্র’র ভূমিকায় জয়রাম ছবির মান বাড়িয়েছেন।
ছবির শুরু বেশ জমজমাট হলেও তারপর বেশ কিছুটা গতি হারায়। তবে সেই গতিহীনতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিশেষত দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা পরিণত হয় এক ম্যাজিক্যাল এক্সপেরিয়েন্সে। কিছু দৃশ্য ও ভিএফএক্স-এর সামান্য বিচ্যুতি থাকলেও তা ছবি দেখার সামগ্রিক অভিজ্ঞতায় বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে না। ‘কান্তারা’, ‘৭৭৭ চার্লি’র মতো জাতীয় স্তরে সমাদৃত ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফার অরবিন্দ কাশ্যপ এই ছবিতেও অনবদ্য। এ ছবির ভিজ্যুয়াল আলাদাভাবে দর্শকদের ন্যারেটিভের নান্দনিকতায় জারিত করে।
অনস্বীকার্য, সদ্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়া ঋষভ শেট্টি প্রমাণ করলেন ‘কান্তারা’-র সাফল্য ফ্লুক ছিল না। চিত্রনাট্যের চলন বুঝিয়ে দেয় যে গল্পের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক শিকড়ের দিকগুলো নিয়ে গল্পকার ঋষভের গভীর ব্যুৎপত্তি ও উপলব্ধি রয়েছে। এই ছবি অবশ্যই ঋষভ শেট্টির ‘ম্যাগনাম ওপাস’ যার আসল আনন্দ পেতে গেলে বড় পর্দায় দেখতে হবে। ‘কান্তারা: চ্যাপ্টার ১’ নিশ্চিতভাবেই কন্নড় তথা ভারতীয় ছবির ইতিহাসে একটা উজ্জ্বল সংযোজন।