কর্মরত মায়েদের হয়ে সওয়াল করলেন কঙ্গনা

কর্মক্ষেত্রে প্রার্থনার জন্য আলাদা ঘর থাকে, কিন্তু কর্মরত মায়েদের সন্তানদের জন্য কেন কোনও নির্দিষ্ট জায়গা থাকে না? এই প্রশ্নই তুললেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। তাঁর মতে, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু উৎসাহ দিলেই হবে না, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকাঠামো ও সহায়ক পরিবেশ।

আগামী ১২ জুন মুক্তি পেতে চলা তাঁর নতুন ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-র প্রচারে গিয়ে এই মন্তব্য করেন কঙ্গনা। ছবির সহ-অভিনেত্রী স্মিতা তাম্বে ও গিরিজা ওকের সঙ্গে এক প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে তিনি কর্মজীবী মায়েদের সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন।

কঙ্গনা জানান, ছবির শুটিং চলাকালীন তিনি প্রায়ই দেখতেন স্মিতা তাম্বের দুই মেয়ে সেটে আসত। তখনই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, কর্মক্ষেত্রে সন্তানদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কেন নেই। তিনি বলেন, আজকের দিনে অনেক মহিলা পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সন্তানদের দেখভালের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাঁদের অনেক সময় পরিবার এবং কেরিয়ারের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।


অভিনেত্রীর মতে, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি না হলে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কর্মক্ষেত্রে প্রার্থনার ঘর, বিশ্রামাগার বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু শিশুদের জন্য আলাদা ঘর বা ডে-কেয়ারের মতো ব্যবস্থা নিয়ে খুব কমই ভাবি।’’ তাঁর মতে, কর্মরত মায়েদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে আসার মতো পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ভূমিকাও উল্লেখ করেন কঙ্গনা। তাঁর বক্তব্য, যদি সরকার সত্যিই বৃহত্তর সংখ্যায় মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়, তবে শিশু পরিচর্যা সংক্রান্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। তা না হলে বহু মহিলাকে পরিবার ও পেশার মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।

এদিকে, কঙ্গনার আসন্ন ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ একটি বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত থ্রিলার। সন্ত্রাসবাদী হামলার সময় একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, নিরাপত্তারক্ষী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য কর্মীদের সাহসিকতার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে। বিশেষ করে মুম্বইয়ের কামা হাসপাতালের কর্মীদের বীরত্বকে সম্মান জানানো হয়েছে এই ছবির মাধ্যমে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মনোজ তাপাড়িয়া। কঙ্গনার মতে, এই ছবি শুধু সাহসিকতার গল্প নয়, বরং দায়িত্ববোধ ও মানবিকতারও এক অনন্য উদাহরণ।