‘অভিমান’ বিতর্কে মুখ খুললেন সৌরভ-যীশু

আজ শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ‘অভিমান’। আর মুক্তির পর থেকেই সিনেমা নিয়ে শুরু বিতর্ক। ছবিটির বিরুদ্ধে ভাবনা ও চরিত্র চুরির অভিযোগ এনেছেন সুমন ঘোষ। বিষয়টি নিয়ে এবারে মুখ খুললেন ছবির প্রযোজক সৌরভ দাস ও যীশু সেনগুপ্ত।

 

জানিয়েছেন, ‘অভিমান ছবির প্রযোজক হিসেবে আমরা আমাদের সমগ্র সৃজনশীল দলের সততা, মৌলিকতা এবং নিষ্ঠা নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। ছবিটির মূল ভাবনা যীশু সেনগুপ্তের। ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ তৈরি করেছেন পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত ও শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিষ্ঠিত শিল্প ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমস্ত নিবন্ধন, নথিপত্র এবং ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত উপকরণ সহ একটি সুস্পষ্ট ও নথিভুক্ত সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। আমরা অন্যান্য সকল চলচ্চিত্র নির্মাতার কাজ ও তাদের সৃজনশীলতাকে সম্মান করি।’


আজ ছবি মুক্তির পরে  সোশ্যাল মিডিয়ায় সুমন ঘোষ লেখেন,

‘প্রিয় বুম্বাদা,

ভারী মন নিয়ে তোমায় এই চিঠি লিখছি। শিল্পের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন বুকে চেপে বসেছে, যা আমার মতো একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে  বিচলিত করছে।

​সৃজনশীলতা বা শিল্পের মূল ভিত্তি কী? শুধুই একটা চূড়ান্ত সৃষ্টি, নাকি সেই সৃষ্টি তৈরি হওয়ার পেছনের পারস্পরিক বিশ্বাস, সততা ও নৈতিকতা?

​গত আড়াই বছর ধরে তোমার সাথে আমি একটি চিত্রনাট্য নিয়ে আলোচনা করছি। অত্যন্ত যত্ন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি স্ক্রিপ্ট গড়ে তুলেছিলাম— ‘স্টার’। আর তার চরিত্রচিত্রণে Star হিসাবে শুরু থেকেই তোমাকে ভেবে এসেছি। এই আড়াই বছরে তোমার মতো একজন সিনিয়র, খ্যাতনামা অভিনেতার সাথে আমার বেশ কয়েকটি মিটিং হয়েছে। তোমায় ভেবেই চরিত্রটির দুটি ভিন্ন বয়স ও রূপ সাজানো হয়েছিল—১) জরাগ্রস্ত, অবক্ষয়ী রূপ এবং ২) তরতাজা যৌবনের ইমেজ। এমনকি হোমওয়ার্ক হিসেবে আমি তোমায় নেটফ্লিক্সের ‘Elvis’ সিনেমাটি দেখতে বলেছিলাম। যদিও সেটি একজন মিউজিক সুপারস্টারকে নিয়ে, তবুও আমাদের ছবির ভাবনার সাথে তা প্রাসঙ্গিক ছিল। শেষবার, গত ডিসেম্বর মাসে আমাদের কথা চূড়ান্ত হয় যে ‘এনআইডিয়াস’ ছবিটি প্রযোজনা করবে এবং সেই অনুযায়ী আমার প্রোডাকশন কোঅর্ডিনেটর একটি বাজেটও তোমাকে পাঠায়।

​এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক যে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তোমার “অভিমান” ছবির টিজার এবং ট্রেলারে প্রায় হুবহু একই রকম চরিত্রায়ণ, একই রকম দৃশ্য এবং উপাদান (elements) ব্যবহার করা হয়েছে’।

বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘আমার পরিচালক সুমনের প্রতি অত্যন্ত সম্মান রয়েছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সৃজনশীলতা অনেক সময়ে বাস্তবিকতার সীমা পেরিয়ে যায়। কারণ আমরা এই সৃজনশীলতার অনুপ্রেরণা পাই বাস্তব জীবন থেকেই। যদিও অভিমান সম্পূর্ণভাবে একটি মৌলিক, স্বাধীন এবং আইনি ভাবে রেজিস্টার করা একটি প্রজেক্ট যা পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত তৈরি করেছেন। আর চিত্রনাট্য লিখেছেন সৃজাত। একজন অভিনেতা হিসেবে আমার কাজ চিত্রনাট্যের মধ্যে জীবন দান করা। এখানে কারো কোন সৃজনশীলতা ক্ষতি করা হয়নি, কারো বিশ্বাস ভঙ্গ করা হয়নি। আমি আশা করব আগামীতেও সুমন আগামীতেও ভালো কাজ করবে।’