পশ্চিমবঙ্গের পারফর্মিং আর্টিস্টদের সামাজিক, আর্থিক এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বুধবার নবান্নে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর হাতে একটি স্মারকলিপি দিলেন কণ্ঠশিল্পী অনুরাগ হালদার ও ফসিলস ব্যান্ডের শুভদীপ পান। তাঁরা সরকারের সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছেন রাজ্যের একাধিক গায়ক, বাদ্যযন্ত্রী, মঞ্চশিল্পী, নৃত্যশিল্পী ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মীদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে।
আবেদনে জানিয়েছেন, বহু পারফর্মিং আর্টিস্ট এখনও অনিশ্চিত পরিবেশ, নিয়মিত আয়ের অভাব, স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঘাটতি এবং অবসরকালীন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই শিল্পীদের জন্য স্থায়ী কল্যাণ তহবিল, স্বাস্থ্যবিমা, পেনশন, জরুরি আর্থিক সাহায্য এবং সরকার স্বীকৃত কল্যাণমূলক নীতি চাইছেন তাঁরা।
সাংবাদিকদের কাছে অনুরাগ আর শুভদীপ জানান, তাঁদের লক্ষ্য পারফর্মিং আর্টিস্ট ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য এক শক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এমন একটা ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে বিপদে পড়লে বা দরকারে শিল্পীরা সহজেই সাহায্য আর পরামর্শ পাবেন।
তাঁরা আরও বলেন, শিল্পীদের নিরাপদ, সম্মানজনক এবং চাপমুক্ত পরিবেশ দরকার যাতে অনিশ্চয়তা বা অযাচিত বাধা না থাকে। সেই কারণেই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন।
আরও বলেন, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয়-আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বড় করে তুলতে গেলে শিল্পীদের সম্মান, সরকারি স্বীকৃতি, সামাজিক মর্যাদা দরকার। নতুন প্রজন্মও তাতে উৎসাহ পাবে, রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল আরও সমৃদ্ধ হবে।
অনুরাগ আর শুভদীপ জানালেন, ইতিমধ্যেই তারা বিভিন্ন শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করছেন। সরকারি স্তরেও আলোচনা চলছে। সামনেই সাংবাদিক বৈঠক করে এই উদ্যোগের বিস্তারিত পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা জানাবেন।
শিল্পী মহলের অনেকে বিশ্বাস করেন, পারফর্মিং আর্টিস্টদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ পেলে শিল্পীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক কাঠামো গড়ে ওঠবে বলেও আশা করেছেন।
পারফর্মিং আর্টিস্টদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক জগতে একটা বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিল্পী, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের যৌথ প্রচেষ্টাই এখন প্রধান আশা।