‘আজকের বৈঠকের পরে কলাকুশলীরা স্বস্তি পেয়েছেন’

৪ মে বাংলায় ঘটে গিয়েছে পালাবদল। আর তারপরে গোটা বাংলার খোলনলচে বদলানোর কাজ শুরু হয়েছে। আর সেই বদল শুরু হয়েছে টালিগঞ্জে।  কিন্তু এখনও যায়নি টলিউডের কলাকুশলীদের অসন্তোষ। যে অসন্তোষ গত সরকারের সময়ে শুরু হয়েছিল, তা কিন্তু আজও রয়েছে। বরং তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। পরিস্থিতি এমনই যে তা ক্রমেই বনধের চেহারা নিতে চলেছিল। কিন্তু তা হচ্ছে না।  নেপথ্যে রয়েছে তথ্য সংস্কৃতি দফতর। আর রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আসলে যেহেতু পালাবদলের পরে টালিগঞ্জে  ফেডারেশনের ক্ষমতা ধারে ও ভারে অনেকটাই কমে গিয়েছে  সেই কারণে ফের একাধিক সমস্যা মাথা চাড়া দিচ্ছে। বর্তমানে একাধিক কাজ টালিগঞ্জে শুরু হয়েছে। একাধিক পরিচালক, প্রযোজকেরা কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু সেখানে ফের দেখা যাচ্ছে বকেয়া নিয়ে সমস্যা। এতদিন পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। শ্যুটিং শুরুর ৭ দিনের মধ্যে সমস্ত বকেয়া মেটাতে হবে। কিন্তু একাধিক সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে তা আর হচ্ছে না। বরং দেরি হচ্ছে বকেয়া মেটাতে। পাশাপাশি একাধিক শিল্পীকে বাদ দেওয়াও হচ্ছে। যা নিয়ে কলাকুশলীদের মধ্যে ভয় ক্রমেই বাড়ছে। তা নিয়ে আজ নন্দনে সাংবাদিকদের সামনে এসেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ।

তিনি জানিয়েছেন, আজ তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে ফেডারেশনের ২৬টি শাখার প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যে কারণে আগামীকাল কোনোরকম মিছিল হবে না বলেও জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফেডারেশনের কার্যকাল ফুরিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু স্বরূপ বিশ্বাসের মত লোকেরা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে সেখানে বসেছিলেন। তিনি আরও বলেন সোম অথবা মঙ্গলবার নাগাদ ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে বসবেন। তিনি আরও বলেন এতদিন ধরে যে নিয়ম ছিল তার প্রভূত ক্ষতি করেছে স্বরূপ বিশ্বাসের মত লোকেরা। আর সেই কারণে কিছু ক্ষেত্রে পরিমার্জন করা হবে। পাশাপাশি আরো বলেছেন আজকের এই বৈঠকের পরে ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন, বাকিটা হয়তো সোমবার বা মঙ্গলবারেই জানা যাবে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন কোথাও কেউ লড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু তা সঠিক নয়।


স্পষ্ট করে আরও বলেন যা বৈধ তা চলবে এই টালিগঞ্জে। এই যে ব্যানের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বা একাধিক শিল্পীকে বাদ দেওয়া হচ্ছে তা কারা করছে তা জানেন না। পাশাপাশি আরও বলেন এই কনফেডারেশন কি, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। কারণ তা ট্রেড ইউনিয়ন নয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আরও বলেন এই কনফেডারেশনের তরফে যদি কার্ড দেওয়া হয় আর তা থাকলেই যে হবে তা ঠিক নয়। সঠিক যে নিয়ম রয়েছে তা সকলকে মানতে হবে। পরিষ্কার করে বলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর রয়েছে এবং মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী রয়েছেন। তিনি সবদিক খেয়াল রাখছেন। স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভয় আউট ও ভরসা ইন। সকলেই স্বস্তিতে কাজ করতে পারবেন।