প্রয়াত বলিউড পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৫৭ বছর বয়সি এই পরিচালক। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, বাড়ির শৌচালয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন।
সূত্রের খবর, শুক্রবার গভীর রাতে শৌচালয়ে গিয়ে পড়ে যান সঞ্জয়। মাথায় গুরুতর চোট লাগে তাঁর। প্রবল রক্তক্ষরণও হয়। সেই সময় বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানেরা উপস্থিত থাকলেও ঘুমের মধ্যে কেউ দুর্ঘটনার বিষয়টি টের পাননি বলে জানা গিয়েছে। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। যদিও কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শৌচালয়ের পরিবর্তে রান্নাঘরে পড়ে গিয়েছিলেন পরিচালক। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ ও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
হিন্দি ছবিতে অপরাধমূলক কাহিনি ও অ্যাকশন থ্রিলারকে স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিলেন সঞ্জয় গুপ্ত। পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক হিসেবে বলিউডে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর ছবিতে শহুরে অপরাধজগৎ, টানটান উত্তেজনা, তীক্ষ্ণ সংলাপ এবং বাস্তবধর্মী অ্যাকশন বিশেষ গুরুত্ব পেত। সেই কারণেই হিন্দি সিনেমার অপরাধমূলক থ্রিলার ঘরানায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
১৯৯৪ সালে ‘আতিশ: ফিল দ্য ফায়ার’ ছবির হাত ধরে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন সঞ্জয়। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সঞ্জয় দত্ত। পরবর্তী সময়ে তাঁর সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করেন পরিচালক। তাঁদের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘কাঁটে’ (২০০২), ‘মুসাফির’ (২০০৪), ‘জ়িন্দা’ (২০০৬) এবং ‘শুটআউট অ্যাট লোখন্ডওয়ালা’ (২০০৭)। শেষের ছবিটির প্রযোজনা ও চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে মুম্বইয়ের লোখন্ডওয়ালা কমপ্লেক্সে পুলিশ ও অপরাধীদের মধ্যে গুলির লড়াইয়ের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল ছবিটি।
এর পর ২০১৩ সালে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’ পরিচালনা করেন সঞ্জয়। বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত এই ছবিও অপরাধজগতের কাহিনিনির্ভর ছিল। তাঁর পরিচালিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ঐশ্বর্যা রায় বচ্চন অভিনীত ‘জজ়বা’ (২০১৫) এবং হৃতিক রোশন ও ইয়ামি গৌতম অভিনীত ‘কাবিল’ (২০১৭)। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে বলিউডে শোকের ছায়া।