টলিউডের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের জল্পনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে আর্টিস্ট ফোরাম। সম্প্রতি বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে বিনোদন মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ফেডারেশনের পরিবর্তে একটি কনফেডারেশন গঠন হতে পারে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি বর্তমানে থাকা ২৬টি গিল্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেই আবহেই আর্টিস্ট ফোরাম বিলুপ্ত হতে পারে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে টলিপাড়ায়।
তবে এই জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম। সংগঠনের সহকারী সম্পাদক দেবদূত ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফোরাম ভেঙে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। সংবাদমাধ্যমের তরফে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসেই উড়িয়ে দেন পুরো বিষয়টি। তাঁর কথায়, “এই ধরনের গুঞ্জন ছড়ানোর পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। শুনেছি, সংগঠনটিকে ঘিরে অনেকেরই অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু তাই বলে ফোরাম ভেঙে যাচ্ছে, এমন কোনও পরিস্থিতি নেই।”
বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের অভিনেতাদের স্বার্থরক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে আসছে আর্টিস্ট ফোরাম। অভিনেতাদের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং পেশাগত স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ফোরামের সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক এবং কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও টলিউডের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আর্টিস্ট ফোরাম নতুন করে আলোচনায় আসে। তালসারিতে শুটিং চলাকালীন রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশন এবং আর্টিস্ট ফোরামের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের পুত্র অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, দুই পৃথক সংগঠন কীভাবে একই বিষয়ে একসঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এমনকি তিনি ফোরামের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে দেবদূত ঘোষ বলেন, ‘আইনি বিষয় আদালতেই মোকাবিলা করা হবে। এর বেশি এখন কিছু বলা সম্ভব নয়।” তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাহুলের পরিবার, বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং তাঁদের সন্তান সহজের পাশে শেষ পর্যন্ত থাকবে আর্টিস্ট ফোরাম।
দেবদূতের কথায়, ‘আমরা মানসিক, শারীরিক এবং আইনি— সব দিক থেকেই প্রিয়াঙ্কার পাশে আছি। রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনা এবং তাঁর পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
মার্চ মাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তিন মাস পূর্ণ হতে চললেও এখনও তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ্যে আসেনি। যদিও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রেখে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন দেবদূত। তাঁর বিশ্বাস, আইনের পথেই একদিন সত্য সামনে আসবে।