ছবির নাম ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’। এমন রিয়ালাইজেশন কেন?
অঙ্কুশ: (হাসি) জীবনে চলার পথে এখন রিয়ালাইজ হল তাই। নারী চরিত্র জটিল কিনা বুঝতে বুঝতে চল্লিশ ছুঁতে চলেছি।
ঐন্দ্রিলা দেখছো কী বলছে?
ঐন্দ্রিলা: আমি মুখে কিছু বলি না। কাজে করি। (হাসি)
তোমাদের ছবির ট্রেলার দেখে কিন্তু একটা পুরনো দিনের ছবির ফ্লেভার পেলাম। একটা পুরো কমার্শিয়াল ছবি হতে চলেছে।
অঙ্কুশ: একদমই তাই। পুরো কমার্শিয়াল ছবি।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা আমাদের দিদির মনের কথা কী জানলে?
অঙ্কুশ: দিদি আমাদের ভালোবাসেন। যখনই দেখা হয়, আমাদের বিয়ে নিয়ে কথা বলেন। কবে বিয়ে করছি জানতে চান। আর জানি বলেই বলছি, দিদি আমাকে বিশ্বাস করেন না। ভাবেন, কিছু হলে আমার ভুল। ও (ঐন্দ্রিলা) ভালো মুখ করে থাকে। তো আপাতত দিদির মনের কথা ওটাই, আমরা বিয়ে কবে করছি। ছবিতে তাঁর কথাও থাকবে।
তাহলে কী ২০২৬-এ এই ঘটনাটা ঘটতে চলেছে?
অঙ্কুশ: ঘটনাটা ঘটলে জানতে পারবে (হাসি)।
যতই ছবির নাম এমন হোক, বোঝাই যাচ্ছে, এই ছবি মানুষকে নতুন করে প্রেমে ফেলবে।
ঐন্দ্রিলা: তা তো অবশ্যই। ছবিটা ভালো লাগার মতোই।
আচ্ছা, তোমাদের জার্নির শুরুটা বলবে?
অঙ্কুশ: ওটা আমি বলি। ‘কেল্লাফতে’-র সময় ও আমার পোস্টারের ছবি দেখে রিজেক্ট করেছিল। আমাদের প্রোডিউসার বলেছিল, এই ছেলেটির সঙ্গে পরের ছবি করতে। কিন্তু, ও নাক সিঁটকেছিল। বলেছিল, না করব না। কিন্তু যখন জানলো নাচতে পারি, তখন রাজি হয়েছিল। ছবিটা আর হয়নি তখন। কিন্তু ওই তখন থেকে সম্পর্কটা হয়েছে।
আর অঙ্কুশের পুরোনো প্রেমিকারা?
ঐন্দ্রিলা: তাড়িয়ে দিয়েছি (হাসি)। না, না। এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা খুব ভালো। তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। এটা তো অন্যায় নয়। আর তাঁরা আমাদের সংসারে আগুন লাগাতেও আসছেন না। তবে একটা কথা বলব, অঙ্কুশ মেয়েদের রেসপেক্ট করে। অঙ্কুশ সবাইকে ভালোবাসতে জানে। এটা একটা খুব ভালো গুণ।
নতুন বছরের রেজোলিউশন কী?
ঐন্দ্রিলা: আমার কোনো রেজোলিউশন নেই। কারণ আমি মানতে পারি না। কিছুই হিসেব মত করা হয় না। তাই আমি ভগবানের উপর ছেড়ে দিয়েছি। আমি ভগবান মানি। তিনি যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, যাব। খালি ভালো কাজ করব এটাই।
অঙ্কুশ: আমারও কোনও রেজোলিউশন নেই। খালি চাই, আগামীতে যে কাজ করব, তার জন্য যে ডায়েট বা যা কিছুই হোক, সব যেন নিয়ম মেনে করতে পারি। সেই মানসিকতাটা যেন বজায় রাখতে পারি। এটাই রেজোলিউশন।
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কিছুই হল এবার। হল পাওয়া না পাওয়া, প্রাইম টাইম, ছুটির সময়ে ছবি মুক্তি, সব মিলিয়ে তুমি অভিনেতা হিসেবে, প্রোডিউসার হিসেবে কী বলবে?
অঙ্কুশ: দেখো, বাংলা ছবিতে কেন এই ইনসিকিউরিটি কাজ করে আমি জানি না। অন্য ভাষার ছবিতে এই ব্যাপারটা তো নেই। সেসব ছবি তো নিজেদের প্রমাণ করেছে। ছবি মানুষকে আনন্দ দেয়। ছুটির সময় ভালো ব্যবসা হবে, বাকি সময় হবে না, আমি এসব ভাবতেই চাই না। সেকারণেই আমি ৯ তারিখ রিলিজ করছি। ভালো কন্টেন্ট, ভালো ছবি, মানুষ দেখবেন। অফিস সামলে, বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম করে, নিজের জন্য সময় বার করে মানুষ চাইলেই ছবি দেখতে যান। তার জন্য ছুটির দিন ম্যাটার করে না। এমন ছবিরও উদাহরণ আছে, যে ছবি হলিডেতে রিলিজ করেও ব্যবসা করতে পারেনি। আমি ওই হলিডেতে রিলিজ করে ওই লড়াইয়ে যেতে চাই না। যেতে পারব না। কারণ অনেক সিনিয়ররা আছেন। সকলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক।
এই ছবিতে তোমার চরিত্রটা শিক্ষিকার। চরিত্র নিয়ে কী বলবে ঐন্দ্রিলা?
ঐন্দ্রিলা: এই ছবির চরিত্রটা একটু আলাদা। চরিত্রের নাম আঁখি। ছবিতে মহিলা একজন শিক্ষিকা। বোনের সঙ্গে থাকে। স্ট্রাগল করছে লাইফে। কিন্তু যেটা আসল বিষয়, ও স্ট্রাগল করতে করতে হাঁফিয়ে যাচ্ছে না। আমরা কী একটা কাজ করতে করতে হাঁফিয়ে যাই। ছেড়ে দিই। এই মহিলা কিন্তু শেষ দেখে যাচ্ছে। এই ছবি ঝুন্টু, মানে অঙ্কুশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক, তা নিয়েই। এই সম্পর্কে একটা গভীরতা আছে। প্লাস একটা আলাদা ব্যাপার আছে। তবে গল্পে মেয়েটির ব্যক্তিত্ব অসাধারণ। যেটা আমাকে অ্যাট্রাক্ট করেছিল। আর যেটা মানুষের ভালো লাগবে বলে আমার আশা।
দর্শকদের কী বলবে?
অঙ্কুশ: দর্শকদের বলব, সপরিবারে গিয়ে দেখার মত ছবি। মানুষ হাসতে চায়, আনন্দ করতে চায়। সঙ্গে ইমোশনও আছে। এটা একটা প্যাকড ছবি। সব আছে। আশা করি ভালো লাগবে। ৯ তারিখ রিলিজ করছে। সরস্বতী পুজোর আগেই। সবাই মিলে হলে গিয়ে ছবিটা দেখুন।