ভেনিসে ফের বাংলার জয়, নেটপ্যাক পুরস্কার অনুপর্ণা রায়ের ছবির

PIC-X

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ফের বাংলার জয়জয়কার। বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ফের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন পরিচালক অনুপর্ণা রায়। তাঁর পরিচালিত দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট’ জিতে নিল সেরা এশীয় ছবির সম্মান ‘নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড’। ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই সাফল্যের ফলে টানা দু’বছর আন্তর্জাতিক পুরস্কার জয়ের নজির গড়লেন তরুণ এই পরিচালক।

মুম্বইয়ের পটভূমিকায় তৈরি ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে প্রেম, দাম্পত্য, বাসনা এবং শিকড়ের টান। চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে চার মানুষের জীবনের জটিল সম্পর্ক ও মানসিক টানাপড়েনের গল্প বলে এই ছবি। করিমের চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রীতম পিলানিয়া, তাঁর স্ত্রী আমিনার ভূমিকায় নীলিমা শর্মা। গল্পে নতুন মোড় আসে করিমের সঙ্গে ছিঁচকে অপরাধী সুক্কার পরিচয়ের পর। অন্যদিকে, নতুন সহকর্মী ওমরামের প্রতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েন আমিনা। সম্পর্কের এই টানাপড়েনের মধ্যেই উন্মোচিত হয় মানুষের মনের অন্ধকার, আকাঙ্ক্ষা এবং একাকিত্ব।

মানবমনের এই জটিল মনস্তত্ত্বই পর্দায় নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন অনুপর্ণা। ভেনিসের পর খুব শীঘ্রই বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির এশীয় প্রিমিয়ার হতে চলেছে। স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে বুসানের মঞ্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানিয়েছেন পরিচালক।


তবে এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। পুরুলিয়ার নারায়ণপুর গ্রামের মেয়ে অনুপর্ণা রায়ের জন্ম ১৯৯৪ সালের ৯ মে। তাঁর বাবা ব্রহ্মানন্দ রায়। কথিত আছে, কিংবদন্তি পরিচালক ঋত্বিক ঘটকই তাঁর নাম রেখেছিলেন অনুপর্ণা। রানিপুর কোলিয়ারি উচ্চ বিদ্যালয় ও নাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কুলটি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক হন তিনি। পরে গণযোগাযোগ নিয়ে পড়াশোনা করেন।

চলচ্চিত্র জগতে পা রাখার আগে দিল্লির একটি কল সেন্টার এবং মুম্বইয়ের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় বিক্রয়কর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন অনুপর্ণা। ২০২৩ সালে ‘রান টু দ্য রিভার’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রার শুরু।

এর পরেই আসে বড় সাফল্য। গত বছর ভেনিসের ৮২তম আসরে তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘সংস অফ ফরগোটেন ট্রিজ’-এর জন্য ওরিজোন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জেতেন অনুপর্ণা। এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় ছবির জন্য ফের ভেনিসে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বাংলার মাটি থেকে উঠে আসা এক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতার এই সাফল্য তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, ভারতীয় স্বাধীন চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।