বাংলা সিনেমার জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের বহু প্রতীক্ষিত পুজোর ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-র অফিশিয়াল ট্রেলার শেয়ার করলেন ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ছবির ট্রেলার শেয়ার করে অমিতাভ বচ্চন উল্লেখ করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৫০তম জন্মবার্ষিকীর কথা। দেবদাস ও পরিণীতা-র অমর স্রষ্টার পাশাপাশি তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন ব্রিটিশ শাসকদের সঙ্গে শরৎচন্দ্রের সেই ঐতিহাসিক সংঘাতের প্রসঙ্গ, যার কেন্দ্রে ছিল তাঁর বিদ্রোহী উপন্যাস ‘পথের দাবী’।
ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সর্বকালের শ্রেষ্ঠ অভিনেতার এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র-র জন্য এক বিরাট মুহূর্ত। একইসঙ্গে বাংলার সাহিত্য, ইতিহাস এবং স্বাধীনতার লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি অধ্যায়কে পৌঁছে দিল আরও বৃহত্তর জাতীয় পরিসরে।
প্রদীপ কুমার নন্দীর নন্দী মুভিজ নিবেদিত এবং সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ আবর্তিত হয়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী রাজনৈতিক উপন্যাস পথের দাবী-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ঐতিহাসিক বিতর্ক ও সংঘাতকে ঘিরে।
১৯২৬ সালে প্রকাশিত পথের দাবী-র বিপ্লবী বক্তব্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীকালে বইটিকে ‘রাজদ্রোহমূলক’ বিবেচনা করে নিষিদ্ধ করেছিল ব্রিটিশ প্রশাসন। সেই নিষেধাজ্ঞা, তার বিরুদ্ধে শরৎচন্দ্রের অবস্থান এবং একটি কলম কীভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সামনে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছিল—সেই ইতিহাসই ছবির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
ছবিটির তাৎপর্য আরও বাড়িয়েছে সময়কাল। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্ধশত জন্মবর্ষ এবং ‘পথের দাবী’ প্রকাশের শতবর্ষে তৈরি হয়েছে এই ছবি। ফলে এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র শুধুমাত্র একটি পিরিয়ড ফিল্ম নয়, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতি এক সিনেম্যাটিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।
ছবিতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় টোটা রায়চৌধুরী এবং তাঁর সৃষ্ট কিংবদন্তি বিপ্লবী চরিত্র সব্যসাচী মল্লিকের ভূমিকায় আবীর চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন মিমি চক্রবর্তী, দিব্যানী মণ্ডল, ঋক চট্টোপাধ্যায়, দেবপ্রিয় মুখার্জী, সঞ্জয় নাগ, কৌশানী মুখার্জী এবং কাঞ্চন মল্লিক-সহ আরও অনেকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় নাগ।
ট্রেলারে উঠে এসেছে কলম বনাম সাম্রাজ্যের লড়াই—একদিকে শরৎচন্দ্র, অন্যদিকে তাঁরই কলমে জন্ম নেওয়া বিপ্লবী সব্যসাচী। পথের দাবী-কে ঘিরে ব্রিটিশ সরকারের অস্বস্তি, বই নিষিদ্ধ হওয়া, শরৎচন্দ্রের প্রতিবাদ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ—সব মিলিয়ে ইতিহাস, সাহিত্য ও বিপ্লবের এক বিস্তৃত ক্যানভাসের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রেলার।
গত ১ অক্টোবর দেউলটিতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত শরৎকুঠিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশ্যে আসে ছবির ট্রেলার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক ও কলাকুশলীরা।
আর সেই ট্রেলার এবার শেয়ার করলেন অমিতাভ বচ্চন। বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাসকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি ছবির পাশে ভারতীয় সিনেমার এমন এক কিংবদন্তির এই উপস্থিতি এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র-কে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশাকে নিঃসন্দেহে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল।
ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ, সম্পাদনা, সঙ্গীত ও গীতরচনার দায়িত্বেও রয়েছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। চিত্রগ্রহণে ইন্দ্রনাথ মারিক, আবহসঙ্গীতে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, রূপসজ্জায় সোমনাথ কুণ্ডু এবং পোশাক পরিকল্পনায় সাবর্ণী দাস। ছবির প্রযোজক প্রদীপ কুমার নন্দী।
নন্দী মুভিজ নিবেদিত ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ আগামী ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, পুজোয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।