ন’বছর আগের ওই দুর্ঘটনা এখনও ভুলে যায়নি বাংলা বিনোদন দুনিয়া। ২০১৭-র ২৯ এপ্রিল গভীর রাতে রাসবিহারী কানেক্টরে বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছিল। পাশে ছিলেন সোনিকা চৌহান। হাসপাতালে দু’জনকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা সোনিকাকে মৃত ঘোষণা করেন, মাত্র ২৭ বছর বয়সে থেমে যায় তাঁর জীবন। বিক্রম আহত হলেও বেঁচে যান। এরপর থেকেই বিক্রমের বিরুদ্ধে দায়ের হয় একাধিক ধারায় মামলা। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অবহেলা সহ আরও অনেক অভিযোগ। গ্রেফতার হন বিক্রম, পরে জামিনও পান। মামলা চলছে আজও, এখনও চূড়ান্ত রায় হয়নি।
আজ মঙ্গলবার সেই মামলায় আলিপুর আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়। শুধু সহকর্মী নন, তাঁর ও সোনিকার মধ্যে ছিল গভীর সম্পর্ক। প্রায় সাড়ে চার বছর একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছে, বিয়ের কথাও চলছিল। শেষমেশ নানা কারণে ভেঙে যায় সম্পর্কটা, কিন্তু দু’জনের মধ্যে শ্রদ্ধা থেকে গিয়েছিল। সাহেব নিজেই বহু সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিচ্ছেদের পরও যোগাযোগ ছিল। আর সোনিকার মৃত্যুর পর তাঁর মনে তৈরি হয়েছিল এক অপূরণীয় শূন্যতা। এ কথা তিনি নিজেই একাধিকবার বলেছিলেন। তাই এই ঘটনায় তদন্তের শুরু থেকেই সাহেবের সাক্ষ্য আগ্রহের কেন্দ্রে।
মামলায় ইতিমধ্যে অনেক প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সাক্ষ্য রেকর্ড হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম। জানা গিয়েছে, তাঁকেও আদালতে সাক্ষী হিসেবেই তলব করা হয়েছিল। বিচার প্রক্রিয়া চলছে বলে আদালতের বক্তব্য এখনো সামনে আসেনি।
সোনিকার উত্থান নাটকীয়। ২০১৩-তে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া আর মিস ডিভাতে অংশ নিয়ে তিনি চটজলদি স্টার হন। মডেলিং, অভিনয়, টেলিভিশন সঞ্চালনা—সবখানেই ছিলেন জনপ্রিয়। কিন্তু এক মুহূর্তের ভুলে থামল ঝকঝকে কেরিয়ারটা।
দশ বছর পেরিয়েও সোনিকা চৌহান মৃত্যু মামলায় কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলো না। তাই প্রতিটা শুনানি নিয়ে ফের মানুষের আগ্রহ বাড়ে। এবার সাহেব চট্টোপাধ্যায় আদালতে পা রেখেছেন, তাতে মামলাটা যেন অন্য মাত্রা পেল।