বেঙ্গালুরুর অন্যতম পরিচিত মন্দির শ্রী চায়াদেবী শ্রী শনৈশ্বর স্বামী ক্ষেত্র মন্দিরে একটি রোবোটিক হাতি উপহার দিলেন অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। অভিনেত্রীর সঙ্গে পেটা ইন্ডিয়া এবং সিইউপিএ যৌথভাবে এই উপহার মন্দিরে দেওয়া হয়। এই রোবোটিক হাতির নাম রাখা হয়েছে ‘নীলা প্রভা’।
একটি অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পতি ও সমাজসেবী দয়ানন্দা আর, রেনুকেশ্বর এমআর উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং অসংখ্য ভক্তের উপস্থিতিতে ‘নীলা প্রভা’-র উদ্বোধন করা হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জীবন্ত হাতি না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে পেটা ইন্ডিয়া এবং সিইউপিএ এই উদ্যোগ নেয়। উল্লেখ্য পেটা ইন্ডিয়ার সহায়তায় দেশের ২৮ তম এবং কর্ণাটকের ৯তম রোবোটিক হাতি প্রদান প্রকল্প অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে রিচা চাড্ডা বলেন, ‘বেঙ্গালুরুর শ্রী চায়াদেবী শ্রী শনৈশ্বর স্বামী ক্ষেত্র মন্দিরে নীলা প্রভা উপহার দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই রোবোটিক হাতি একদিকে যেমন মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি বজায় রাখবে, অন্যদিকে প্রকৃত হাতিদেরর বন্দিদশ থেকে মুক্ত রাখা যাবে। তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে বাঁচার সুযোগ করে দেবে। বেঙ্গালুরুর মতো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ শহরের সঙ্গে এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্ত হতে পেরে আমি বিশেষভাবে গর্বিত।‘
মন্দিরের প্রশাসক আদিত্যনান বলেন, ‘মন্দির সবসময়ি আধ্যাত্মিক দিশা ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। নীলা প্রভার আগমণ প্রমাণ করে যে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আশা করছি এই উদ্যোগ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানকে হাতিদের বন্দিজীবন থেকে রক্ষা করতে অনুপ্রাণিত করবে।‘
পেটা ইন্ডিয়ার মতে, হাতি অত্যন্ত বুদ্ধিমান, সামাজিক এবং সক্রিয় বন্যপ্রাণী। কিন্তু বন্দিদশায় শোভাযাত্রা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য তাদের প্রায়শই মারধর, অস্ত্রের ভয় এবং জোর করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় কংক্রিটের মেঝেতে শিকলবন্দি থাকার ফলে অনেক হাতির পায়ে গুরুতর ক্ষত ও নানা শারীরি সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত খাবার, জল, চিকিৎসা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হয়। ফলে অনেক সময় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ করে।
‘নীলা প্রভা’-র প্রায় ৩ মিটার উঁচু এবং ওজন প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম। এটি রাবার, ফাইবার, ধাতু, জাল, ফোম ও স্টিল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পাঁচটি মোটরের মাধ্যমে এটিকে চালানো হয়। দেখতে ও ব্যবহারে এটি অনেকটাই প্রকৃত হাতির মতো। এটি মাথা নাড়াতে, কান ও চোখ নড়াতে, লেজ দোলাতে, শুঁড় তুলতে এবং এমনকি জল ছেঁটাতেও পারে। এর পিঠে বসার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে সহজেই এই হাতিকে পরিচালনা করা যায়। চাকার বেস থাকায় ধর্মীয় শোঙাযাত্রা ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে সহজে ব্যবহার করা সম্ভব।