রবীন্দ্রনাথের ভাবধারায় মোড়া শান্তিনিকেতনের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে এক জটিল সম্পর্কের গল্প। ঝুমরি প্রোডাকসন্স-এর প্রযোজনায় সংস্থার প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে উঠে এসেছে প্রেম, সন্দেহ, মানসিক টানাপোড়েন এবং সম্পর্কের অপ্রত্যাশিত মোড়।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রান্তিক (সৌরভ দাস)। বয়স আটাশ, বিশ্বভারতীর ছাত্র এবং নেশায় শখের চিত্রগ্রাহক। ক্যামেরার চোখ দিয়েই সে খোঁজে মানুষ ও জীবনের অর্থ। ছবি তুলতে গিয়েই তার আলাপ হয় অ্যাঞ্জেলিনা (দেবলীনা দত্ত)-র সঙ্গে। বাঙালি বাবা ও ফরাসি মায়ের সন্তান অ্যাঞ্জেলিনা রবীন্দ্রসাহিত্য এবং আদিবাসী সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই শান্তিনিকেতনকে নিজের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছে।
প্রান্তিক ও অ্যাঞ্জেলিনার মধ্যে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা খুব দ্রুতই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় প্রান্তিকের প্রেমিকা রশ্মি (শ্রী)-র কাছে। সম্পর্কের ভেতরে জমতে থাকে সন্দেহ ও মানসিক দূরত্ব। ঠিক সেই সময় আচমকাই প্রান্তিকের জীবন থেকে উধাও হয়ে যায় অ্যাঞ্জেলিনা।
কিন্তু গল্প সেখানেই থেমে থাকে না। পরবর্তী সময়ে অ্যাঞ্জেলিনার ফিরে আসা প্রান্তিক ও রশ্মির জীবনে নিয়ে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা। শুরু হয় প্রেমের এক নতুন আখ্যান—যার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না কেউই।
এই ঘটনার ধারাবিবরণী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনোরথ সেনগুপ্ত (অনিন্দ্য চক্রবর্তী)-র কাছে উঠে আসে অন্য মাত্রায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সাহিত্যিক সাত্যকি সোম (তিমির চক্রবর্তী) খুঁজে পান তাঁর নতুন গল্পের বীজ—যেখানে বাস্তবতা, অনুভূতি ও মানসিক বিভ্রম একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়।
ছবির মূল কাহিনি লিখেছেন বৈশাখি চক্রবর্তী। চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অংশুমান চক্রবর্তী। চিত্রগ্রহণ করেছেন জয়দীপ ভৌমিক। পোশাক পরিকল্পনা ও প্রযোজনায় ঝুমা চক্রবর্তী।
সম্পর্কের সূক্ষ্ম জটিলতা, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং অপ্রস্তুত প্রেমের ভাষা—এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি সেই অভিজ্ঞতাকেই পর্দায় তুলে ধরার প্রয়াস।