সরশুনা থেকে বছর ৩৪-এর এক যুবকের দেহ উদ্ধার। নাম সানি সিং। মৃতের স্ত্রী এবং শ্যালকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত যুবকের পরিবার। অভিযোগ, সানির নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস ছিল। সেই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্যদিন অশান্তিও হত। সোমবার রাতেও একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া, অশান্তি হয়েছিল বলে অভিযোগ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হত বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
মঙ্গল সন্ধ্যায় সরশুনার এক যুবক গলায় দড়ি দিয়েছেন বলে ফোন আসে পুলিশের কাছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। সরশুনায় স্ত্রী পুনিতার কোলে সানির অচৈতন্য দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। সেই সময় সেখানে পাড়া-প্রতিবেশীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রতিবেশী পুলিশকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবাবার সন্ধ্যায় ৬টা ৫০ মিনিটে তাঁদের কাছে ফোন আসে। ফোন করেন পুনিতা সিং। তিনি ফোনে জানান, বেডরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ রয়েছে। তিনি এবং কন্যা তানিশা সিং ভিতরে আটকে ছিলেন। বিষয়টি অন্য প্রতিবেশীদের জানান। তারপর সকলে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন।এর পরে বেডরুম সংলগ্ন বারান্দা নিয়ে নীচে নেমে আসেন পুনিতা।
পুনিতা প্রতিবেশীদের নিয়ে মূল ফটকের সামনে গেলে কাঠের দরজা অর্ধেক খোলা দেখতে পান। পুনিতার অভিযোগ, ঝগড়ার সময় সেই কাঠের দরজার লক ভেঙেছিলেন সানি। নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে পুনিতা লোহার গেট খোলেন। ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখতে পান গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন সানি। পুনিতার সঙ্গে সেই সময় প্রতিবেশীরাও ছিলেন। তার পরেই তাঁরা ১০০-তে ফোন করে থানায় খবর দেন।
সানির দেহে কোনও ক্ষতচিহ্ন ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। যে ওড়না গলায় জড়িয়েছিলেন, সেটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যুবককে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বরে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন পুনিতা। ১৯ জানুয়ারি রাতে আবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা হয়। পুনিতার অভিযোগ, তাঁকে এবং তাঁদের কন্যাকে বাড়ি থেকে বার করে দেন সানি। পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁরা আবার বাড়িতে প্রবেশ করেন।
সানির দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, গলায় ফাঁস লেগে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। গলায় ফাঁস লাগানোর সময় বেঁচে ছিলেন তিনি। সানির বোন সঙ্গীতা শাউ পুনিতা এবং তাঁর ভাই রাকেশ পাসোয়ানের নামে খুনের অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।