ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ ময়নার নেতার

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে ভাঙন শুভেন্দু অধিকারীর গড় পূর্ব মেদিনীপুরে। শুক্রবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন ময়নার নেতা চন্দন মণ্ডল। এদিন কলকাতায় তৃণমূল ভবনে গিয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, দলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং তমলুক সাংগঠনিক এলাকার নেতা সুজিত রায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করে দলবদল করলেন তিনি। বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দলে এই ভাঙন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে পদ্ম শিবিরের পাল্টা দাবি, বিজেপি কোনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল নয়। চন্দনের দলত্যাগে বিজেপির কোনও ক্ষতি হবে না।

জেলা রাজনীতিতে ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার বিরোধী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন চন্দন। ২০২১ সালে জেলায় বিজেপির প্রথম পছন্দের প্রার্থী হিসেবে চন্দনের নাম ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। টিকিট দেওয়া হয়েছিল ক্রিকেটার অশোক দিন্দাকে। এরপর সময়ের সঙ্গে বদলেছে ময়নায় রাজনৈতিক সমীকরণ। চন্দনকে ব্লক কনভেনারের পদ থেকেও সরানো হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে প্রবল ক্ষুব্ধ ছিলেন চন্দন অনুগামীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে দলে চন্দনের মতো নেতার গুরুত্ব কমেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির কোনও প্রচারেও সেভাবে অংশ নিতে দেখা যায়নি এই বিক্ষুব্ধ নেতাকে। শেষ পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন চন্দন।

তৃণমূলে যোগ দিয়েই ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন চন্দন। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে ময়নার উন্নয়নে বিজেপি বিধায়ক কোনও কাজই করেননি। তিনি কীভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন সে বিষয়েও বিষ্ময় প্রকাশ করেন চন্দন। তৃণমূলে যোগ দিয়ে ময়নার উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। চন্দনের সাফ কথা, ময়নার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে এবং তাঁদের পাশে থাকতেই তিনি শাসক শিবিরে যোগ দিলেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ভোটের আগে চন্দনের দলত্যাগে চাপে পড়বে বিজেপি। কারণ ময়নার বাগচা এলাকায় চন্দন মণ্ডল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য ও প্রভাবশালী নেতা। ফলে তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় নিশ্চিতভাবেই ব্যাকফুটে গেরুয়া শিবির।


চন্দনের দলত্যাগে বিজেপির কোনও ক্ষতি হবে এ কথা মানতে নারাজ পদ্ম শিবির। তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি মলয় সিনহার দাবি, চন্দন কেন দল ছেড়েছেন, সেটা তিনি জানে না। তবে বিজেপি কোনও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল নয়। এবার জেলার ১৬টি আসনের সবকটিতেই বিজেপি জিতবে। তবে চন্দনের দলছাড়া নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা।

উল্লেখ্য, চন্দনের স্ত্রী খুকুরানি মণ্ডল গোজিনা পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান। তাঁর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও স্বামী দল ছাড়লেও তিনি যে বিজেপি ছাড়তে চলেছেন এমন কোনও ইঙ্গিত এখনও মেলেনি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, চন্দনের স্ত্রীও স্বামীর দেখানো পথে তৃণমূলে যেতে পারেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে খুকুরানি দল ছাড়লে বিজেপি নিশ্চিতভাবেই ময়নায় পায়ের তলার মাটি হারাবে।