রাজ্যে মহিলাদের যাতায়াত-ভাড়া সংক্রান্ত একটি বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এবার থেকে শুধুমাত্র স্থানীয় রুটেই নয়, দূরপাল্লার সরকারি বাসেও মহিলারা সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন। দিঘা থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলা সরকারি বাস পরিষেবায় এই সুবিধা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
নবান্নে নবনির্বাচিত সরকারের দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, মহিলাদের জন্য সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন স্থানীয় সরকারি বাসে এই সুবিধা সীমিত থাকলেও এবার দূরপাল্লার বাসকেও এর আওতায় আনা হচ্ছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুন থেকেই এই প্রকল্প কার্যকর হবে। অর্থাৎ ওই দিন থেকে রাজ্যের সমস্ত মহিলা যাত্রী সরকারি বাসে যাতায়াত করলে তাঁদের কোনও ভাড়া দিতে হবে না। সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নারী ক্ষমতায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
দিয়া দেবনাথ নামের এক বাসযাত্রী বলেন, ‘মহিলাদের জন্য নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্ত খুবই ভালো। এর ফলে মহিলারা খুবই উপকৃত হবেন।‘ যাত্রীদের একাংশও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ এতে দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ অনেকটাই কমবে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, রাজ্যে সরকারি বাসের সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়।
তাঁর মতে, আগে পরিবহন ব্যবস্থার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা দরকার, তারপর এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত করা উচিত। অন্যদিকে, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করেন যে, আপাতত সরকারি বাস বাড়ানোর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে কয়েকটি ইলেকট্রিক বাস চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
এই ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে । সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পও চালু হতে চলেছে। এই প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন, তা নিয়েও আগে সংশয় ছিল। তবে এদিন মন্ত্রী জানান, বর্তমানে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরা সকলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।নতুন করে আবেদন করতে ইচ্ছুকদের জন্য শীঘ্রই একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধা আরও বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিরোধী শিবিরের মতে, শুধুমাত্র ঘোষণা নয়, প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং পরিবহন পরিকাঠামোর উন্নয়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।