ভোট না দিলে কি বাদ যাবে নাম, এসআইআর পর্বের পর আতঙ্কে রাজ্য

এসআইআর পর্বের পর রাজ্যে প্রথম দফার ভোট সম্পন্ন হতেই ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা ছড়িয়েছে। বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে, এবারে ভোট না দিলে নাকি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। এই গুঞ্জনের জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। এমনকি যাঁরা এতদিন ভোটদানে অনীহা দেখাতেন, তাঁরাও এবার ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ভিনরাজ্যে কর্মরত বহু পরিযায়ী শ্রমিকও ভোট দিতে বাড়ি ফিরছেন।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। নির্বাচন সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, ভোট দেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অধিকার। কেউ ভোট না দিলে শুধুমাত্র সেই কারণ দেখিয়ে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, ভোটারের মৃত্যু, ঠিকানা পরিবর্তন কিংবা পরিচয় যাচাইয়ে সমস্যা দেখা দিলে তবেই নাম বাদ পড়তে পারে।
ফলে ভোট না দিলে নাম কাটা যাবে, এই ধারণা ভিত্তিহীন বলেই জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা আতঙ্কের বশে নয়, সচেতনতার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচন দু’দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য হারে ভোট পড়েছে। আগামীকাল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই দফায় রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর আসনও অন্তর্ভুক্ত। মোট সাতটি জেলায় এই দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোট নিয়ে অযথা আতঙ্ক নয়, সচেতনমূলক অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে পারে- এই বার্তাই দিচ্ছে প্রশাসন।