কংগ্রেসে ফিরতে চলেছে মমতা?

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক আগে কংগ্রেস ছেড়ে যে রাজনৈতিক দল গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, দলের সাম্প্রতিক ভাঙন এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার আবহে ফের কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্রের দাবি, সম্প্রতি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব নাকি এসেছে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীর তরফ থেকে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

খবর অনুযায়ী, প্রস্তাব পাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎক্ষণাৎ কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য তিনি কিছুটা সময় চেয়েছেন বলেই সূত্রের দাবি। ফলে এখন রাজনৈতিক মহলের নজর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিষেককে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও তৃণমূলের একাধিক নেতারা জানিয়েছেন এই জাতীয় কোনো সম্ভবনা নেই। এমনকি সাংবাদিক সম্মেলন করেও এমনটা জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে বাংলার রাজনীতিতে নিজের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং তৃণমূলকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলে পরিণত করেন।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে অস্থিরতা ও ভাঙনের জল্পনা তৈরি হওয়ায় নতুন করে নানা সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। সেই আবহেই মমতা ও অভিষেককে কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক আলোচনা।

যদিও এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে এই জল্পনা কতটা বাস্তব রূপ পায়, নাকি তা শুধুই রাজনৈতিক গুঞ্জন হয়ে থেকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।