রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর একের পর এক সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। জেলায় জেলায় মিলছে ‘পুরুষ লক্ষ্মীর’ খোঁজ। তা নিয়ে সসরব হয়েছেন রাজ্য সরকারের কর্মী সদস্য থেকে শুরু করে সসাধারণ আমজনতা। আর এবার নদিয়ার সরাটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সামনে এল আরও এক বিস্ময়কর ঘটনা। অভিযোগ, চরসরাটি এলাকার বাসিন্দা নরেন ঘোষ নামে এক ব্যক্তি গত পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত বিধবা ভাতার টাকা পেয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই দুর্নীতির খবর করতে গিয়ে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা উপপ্রধান বৈদ্যনাথ দাসের রোষের মুখ পড়লেন সাংবাদিকরা।
কীভাবে একজন পুরুষ বিধবা ভাতার টাকা পাচ্ছেন, এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাংবাদিককে ‘দালাল’ বলে কটাক্ষ করেন উপপ্রধান। এমনকী, তিনি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি এই ঘটনায় পঞ্চায়েতের দায় ঝেড়ে ফেলেছেন উপপ্রধান। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় পঞ্চায়েতের কোনও দায় নেই। কারণ আবেদনপত্র যাচাই ও অনুমোদনের দায়িত্ব ছিল বিডিও অফিসের। প্রশাসনিক স্তরে গাফিলতির কারণে এই ভুল হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের পাল্টা দাবি, আবেদনপত্র গ্রহণের সময় বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব ছিল পঞ্চায়েতের। এত বড় অসঙ্গতি দীর্ঘদিন ধরে দেখার পরেও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান, উপপ্রধান এবং তৎকালীন তৃণমূল নেতৃত্ব না দেখার ভান করছে। বরং তাঁরা বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর কিভাবে এতদিন ধরে এই পুরো বিষয়টি প্রশাসনের নাকের ডগায় চলে এল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
তবে নরেন ঘোষের পরিবার সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। নরেনের স্ত্রী সুমতি ঘোষ জানান, তাঁরা কখনও বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেননি। তাঁদের দাবি, বার্ধক্য ভাতার আবেদন করা হলে, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে সেটি ভুলবশত বিধবা ভাতা হিসেবে অনুমোদিত হয়েছিল।
এই ঘটনায় বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার তীব্র বিষোদগার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ভুল হয়ে থাকলে সেটা সংশোধন করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু সেই ভুল আড়াল করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ এবং সাংবাদিকদের অপমান করা কোনও জনপ্রতিনিধির উচিত নয়। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ তাঁর দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হোক।