মমতার বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও, যদি সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগই না পান, তাহলে সেই ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের নামে পরিকল্পিতভাবে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে মহিলা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের।
মমতা দাবি করেন, আগেও আন্দোলন করে প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে আবার আইনি লড়াই ও আন্দোলনের পথে হাঁটবে তাঁর দল। তাঁর কথায়, ‘ভোটাধিকার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, সেটা কেড়ে নেওয়া যাবে না। প্রত্যেকের নাম ফের তোলার জন্য যা যা করা দরকার, আমরা করব।’
এদিন তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে, তাহলে ট্রাইব্যুনালের দরকার কী? মানুষকে আপিল করার জন্য কেমন ট্রাইব্যুনাল তৈরি করেছিলেন। তার পর বলছেন ফ্রোজেন (ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলা) করে দিলাম৷ এটা কী?’ মমতা জানিয়েছেন, এই ইস্যুতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হবে তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। যদিও সরাসরি নাম নেননি, তবে ‘আমোদী-প্রমোদী’ বলে ইঙ্গিত করে তাঁর বিদেশ সফর ও টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার নিয়ে খোঁচা দেন।
সভা থেকে নিজের সরকারের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেছেন মমতা। তিনি জানিয়েছেন, গত ১৫ বছর রাজ্যে লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী-সহ ১০৫টি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘আমরা যা বলি, তা করে দেখাই, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিই না।’ একই সঙ্গে মমতা আশ্বাস দিয়েছেন, যাঁরা এখনও আবাস যোজনার সুবিধা পাননি, তাঁরা ভোটের পর পাবেন। দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শেষে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে মমতা অভিযোগ করেছেন, এই দল ক্ষমতায় এলে মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে এবং মহিলাদের নানা কাজের বিরোধিতা করবে। বিজেপির আদর্শ নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই দল রামকৃষ্ণ বা বিবেকানন্দের আদর্শ মানে না। এমনকি বিজেপিকে সাপের সঙ্গে তুলনা করে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন মমতা।