অভয়া কান্ড নিয়ে এবারে বিস্ফোরক অভিযোগ পরিবারের। রাজ্যের ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে তিলোত্তমার ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নেওয়া নমুনা নষ্ট করার অভিযোগ আনা হল। প্রাক্তন এক ফরেন্সিক কর্তা চিঠি দিয়ে অভয়ার বাবাকে জানিয়েছেন এমনটা। অভয়ার বাবার দাবি, রাজ্য ফরেন্সিক বিভাগের তিন আধিকারকি অভয়ার ভিসেরা স্যাম্পেল নষ্ট করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন চিঠিতে। আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেই কাজ করা হয়েছে বলেই অভিযোগ করা হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই পরিবারের কাছে একটি চিঠি পরাঠানো হয়েছিলল। সেখানেই অভয়ার বাবাকে উল্লেখ করে লেখা ছিল। চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন প্রাক্তন এক ফরেন্সিক আধিকারিক। জানান, অভয়ার ভিসেরা নেওয়ার যে স্যাম্পেল নেওয়া হয়েছিল তা বদলে দেওয়া হয়েছে। অভয়ার লিভার, কিডনির, পাকস্থলির যে স্যাম্পেল নেওয়া হয়েছিল দেখার জন্য যে শরীরে কোন বিষক্রিয়া বা ঘুমের ওষুধ রয়েছে কিনা তা পুরো বদল করা হয়েছে। অভিযোগ, রাজ্য ফরেন্সিক বিভাগের তিন আধিকারিক তা করেছিলেন। রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাব থেকে সেই স্যাম্পেল যখনে সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবে গিয়েছিল সেটাও বদল করা হয়েছিল।
ওই চিঠি এবারে শিয়ালদহ আদালতে পেশ করতে চলেছেন অভয়ার পরিবার। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সিবিআই তদন্তের আদেশ দিক আদালত, সেই আর্জি জানানো হবে। চিঠিতে আরও জানানো হবে তৃণ মূল জমানায় খুন হওয়া সকল বিজেপি কর্মীদের ভিসেরা নষ্ট করেছে অভিযুক্ত তিনজন।
এর আগে সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে এর আগে একাধিবার সন্দেহ প্রকাশ করেছে অভয়ার পরিবার। আদালত, এই ঘটনায় নতুন সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় সিবিআইকে। সেই সিট-এর তদন্ত নিয়েও খুশি নয় হাইকোর্ট। গত ২৫ জুন আরজি কর মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট জানায়, গত ২১ মে সিট গঠন করে তদন্তের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী তদন্ত হয়নি।
তবে, মৃত চিকিৎসকের তরুণীর পরিবারের তরফে নতুন এই চিঠি জমা দেওয়ার পরে তদন্তের মোড় কি ঘুরে যাবে? জল্পনা শুরু হয়েছে। আদালতে এ দিন অভয়ার পরিবারের আইনজীবী জানান, আমরা চিঠি পাওয়ার পরে সীমা পাহুজার (আরজি করের ঘটনায় তৎকালীন তদন্তকারী সিবিআই অফিসার) কাছে যাই। তিনি জানান, বিষয়টা দেখা হবে। নতুন সিট (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম) বলছে দেখা হবে। কিন্তু এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ফরেন্সিক বিভাগের এক আধিকারিক ওই চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠি প্রসঙ্গে আইনজীবী জানান, হতে পারে এটা জাল চিঠি। ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিকে নির্দেশ দেওয়া হোক, এই চিঠি যাচাই করে দেখতে। যে দিয়েছে চিঠি তাঁর নাম আছে। তাই সত্যতা যাচাই করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হোক। যদি চিঠি সঠিক হয়, তা হলে ষড়যন্ত্রে সামিল সকলকে তদন্ত আওতায় আনা হোক।