রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটল নবান্ন। বুধবার রাজ্য সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দপ্তরের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে একসঙ্গে বহু ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পে দায়িত্ব বদল করা হয়েছে ৫১ জন আধিকারিকের।
নবান্ন সূত্রের খবর, জনস্বার্থে প্রশাসনিক কাজে আরও সমন্বয় আনতেই এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন নির্দেশ কার্যকর হবে অবিলম্বে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা নতুন দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
জারি হওয়া তালিকায় দেখা গিয়েছে, অভিজ্ঞান পাঁজাকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরে সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি পদে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কর্মরত ছিলেন। একইভাবে অঘোর কুমার রায়কে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে ফার্স্ট এলএ কালেক্টর পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
আহসান আলিকে নগরোন্নয়ন ও পুর দপ্তরে সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনির্বাণ সোমকে শ্রম দপ্তরে জয়েন্ট সেক্রেটারি করা হয়েছে। অন্যদিকে অঞ্জন বিশ্বাসকে হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
পর্যটন দপ্তরেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদলি হয়েছে। অনুপমা পুরকায়স্থকে জয়েন্ট ডিরেক্টর, ট্যুরিজম পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জ্যোতি ঘোষকেও পর্যটন দপ্তরে জয়েন্ট ডিরেক্টর পদে আনা হয়েছে। এছাড়া কয়ালির দাসকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের জেনারেল ম্যানেজার করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে অরবিন্দ ঘোষকে। আবার ওয়াকফ বোর্ডের সিইও পদে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্ঘ্যপ্রসূন কাজি। তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরেও নতুন মুখ আনা হয়েছে। বিষ্ণুব্রত ভট্টাচার্যকে সেখানে সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর, পরিবহণ দপ্তর, মৎস্য দপ্তর, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর এবং সংশোধনাগার প্রশাসন দপ্তরেও একাধিক বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী সময় এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই রদবদল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা স্তর থেকে শুরু করে নবান্নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের ফলে প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে প্রশাসনিক কাঠামোয় আরও সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে বলেও মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।